
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন-ইসরায়েল-ইরান চলমান সংঘাত ও উত্তেজনা সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই জ্বালানি তেলের বড় চালান পেয়েছে পাকিস্তান। ইতোমধ্যে চারটি পেট্রোলবাহী জাহাজ দেশটির বন্দর কাসিমে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) পাকিস্তানের গণমাধ্যম জিউ নিউজের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি উদ্যোগের অংশ হিসেবে এসব জাহাজে করে পেট্রোল আমদানি করা হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইতোমধ্যে প্রায় ৩৭ হাজার টন পেট্রোল খালাস করা হয়েছে। এছাড়া আরও প্রায় ৫০ হাজার টন পেট্রোলবোঝাই একটি চালান খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। পোর্ট কাসিম কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আরও দুটি জাহাজ শিগগিরই বন্দরে পৌঁছাবে। এর মধ্যে একটি ১২ মার্চ প্রায় ৫৫ হাজার টন এবং অন্যটি ১৩ মার্চ প্রায় ৩৪ হাজার টন পেট্রোল নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি ব্যয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির ফেডারেল সরকার পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রতি লিটারে ৫৫ রুপি বাড়িয়েছে।
সর্বশেষ মূল্য নির্ধারণ অনুযায়ী, পাকিস্তানে পেট্রোলের দাম প্রতি লিটার ৩২১ দশমিক ১৭ রুপি করা হয়েছে, যা আগে ছিল ২৬৬ দশমিক ১৭ রুপি। অন্যদিকে ডিজেলের দাম ২৮০ দশমিক ৮৬ রুপি থেকে বাড়িয়ে ৩৩৫ দশমিক ৮৬ রুপি নির্ধারণ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব মোকাবিলায় জ্বালানি সাশ্রয় ও সংরক্ষণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছে পাকিস্তান সরকার। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, পুরো অঞ্চলই এখন সংঘাতের প্রভাবের মধ্যে রয়েছে। সংকট নিরসনে ইসলামাবাদ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় কঠোর অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে।