March 19, 2026, 12:11 pm

ইরান যুদ্ধে জাপানের সহায়তা চাইতে পারেন ট্রাম্প

অভৈয়নগর প্রতিবেদক

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির সঙ্গে বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন, যেখানে তিনি ইরান যুদ্ধে টোকিও’র সক্রিয় সহায়তা পাওয়ার জন্য চাপ দিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতি প্রধানমন্ত্রী তাকাইচিকে এক অস্বস্তিকর অবস্থানে ফেলেছে, কারণ তিনি বর্তমানে নির্ধারণ করার চেষ্টা করছেন যে সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকে ওয়াশিংটনকে ঠিক কতটুকু সামরিক সহায়তা দেওয়া সম্ভব। ট্রাম্প এর আগে মিত্র দেশগুলোর ‘নামমাত্র’ সহায়তার সমালোচনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বর্তমানে পারস্য উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালিতে মাইন পরিষ্কার করা ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তার আরও বেশি যুদ্ধজাহাজ প্রয়োজন, যা এই সংকটের কারণে বর্তমানে কার্যত বন্ধ রয়েছে।
জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি গত বছর দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই জাপানের শান্তিবাদী সংবিধান সংশোধনের পক্ষে কাজ করছেন। তবে জাপানে বর্তমানে ইরান যুদ্ধ নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ থাকায় তিনি এখন পর্যন্ত হরমুজ প্রণালিতে সহায়তা পাঠানোর কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেননি।
জার্মানি, ইতালি এবং স্পেনের মতো বড় মিত্ররা ইতিমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের এই অভিযানে অংশ নিতে অস্বীকার করে ট্রাম্পকে ক্ষুব্ধ করেছে। গত সোমবার জাপানি পার্লামেন্টে তাকাইচি জানিয়েছেন যে, আমেরিকার কাছ থেকে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক অনুরোধ আসেনি, তবে তারা সংবিধানের আওতায় সম্ভাব্য পদক্ষেপের পরিধি যাচাই করে দেখছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তাকাইচি এই সফরের মাধ্যমে মূলত প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আসন্ন চিন সফরের আগে বেইজিং ও তাইওয়ান বিষয়ে জাপানের উদ্বেগের কথা তুলে ধরতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতির আকস্মিক পরিবর্তনে এখন তাকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট নিয়ে ট্রাম্পের প্রশ্নের প্রথম উত্তরদাতা হতে হচ্ছে।
জাপানি কর্মকর্তারা আশঙ্কা করছেন, ইরান ও ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ফুরিয়ে আসা গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদ বাড়াতে ট্রাম্প জাপানের কাছে যৌথভাবে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের প্রস্তাব দিতে পারেন। তিনটি সরকারি সূত্র জানিয়েছে, টোকিও এখনও এই ধরনের অনুরোধের জবাবে কী বলবে তা নিয়ে বিচার-বিশ্লেষণ করছে।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে তেহরানের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক না থাকলেও টোকিও’র সঙ্গে ইরানের দীর্ঘদিনের সম্পর্ক রয়েছে, যা যুদ্ধের অবসানে একটি সম্ভাব্য কূটনৈতিক পথ খুলে দিতে পারে। তবে ২০১৯ সালে জাপানের মধ্যস্থতার চেষ্টা সফল হয়নি।
প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি এই বৈঠকে ট্রাম্পকে ‘গোল্ডেন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা উদ্যোগে যোগ দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানাতে পারেন, যা কক্ষপথ থেকে আসা হুমকি শনাক্ত ও মোকাবিলা করতে সক্ষম। এ ছাড়াও গত বছর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক থেকে রেহাই পেতে জাপান যে ৫৫০ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তার দ্বিতীয় কিস্তি হিসেবে প্রায় ৬০ বিলিয়ন ডলারের নতুন বিনিয়োগ প্রকল্পের ঘোষণা আসতে পারে এই সফর থেকে।
হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, দুই নেতা ২০২৫ সালে স্বাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তির বাস্তবায়ন ছাড়াও জ্বালানি, নিরাপদ সরবরাহ চেইন, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করবেন। তবে ইরান যুদ্ধ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে তিনি অস্বীকৃতি জানান।
তাকাইচি আশা করছেন, ট্রাম্পের চিন সফরের আগে তাকে তাইওয়ান ঘিরে চিনের ক্রমবর্ধমান সামরিক তৎপরতার বিপদ সম্পর্কে মনে করিয়ে দিতে পারবেন। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও পূর্ব এশিয়ার ভূ-রাজনীতিতে জাপানের এই অবস্থান ও সিদ্ধান্ত অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।
সূত্র: রয়টার্স



ফেসবুক কর্নার