March 19, 2026, 12:05 pm

বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার প্রত্যয় আলজেরিয়ার

অভৈয়নগর প্রতিবেদক

বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার মধ্যকার ঐতিহাসিক দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় ও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন ঢাকায় নিযুক্ত আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আব্দেলৌহাব সাইদানী।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকার আলজেরিয়া দূতাবাসে দেশটির ‘বিজয় দিবস’ উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আলজেরিয়ার জাতীয় সংগীতের সুরের মূর্ছনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়। এরপর আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত তার বক্তব্যে ১৯৬২ সালের ১৯ মার্চের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, এদিন আলজেরীয় প্রজাতন্ত্রের অস্থায়ী সরকারের প্রেসিডেন্ট বেনইউসেফ বেনখেদ্দা ‘এভিয়ান চুক্তির’ পর সমগ্র আলজেরিয়ায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন, যার মাধ্যমে দীর্ঘ আট বছরের সশস্ত্র সংগ্রামের অবসান ঘটেছিল।
রাষ্ট্রদূত উল্লেখ করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপই ১৯৬২ সালের ৫ জুলাই আলজেরিয়ার স্বাধীনতার পথ সুগম করে। একটি গণভোটের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের সম্মতিতে সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই যুদ্ধবিরতি ছিল ঔপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে সংগ্রামে আলজেরিয়ার জনগণ ও ন্যাশনাল লিবারেশন ফ্রন্টের অসীম ত্যাগের চূড়ান্ত ফল।
সাইদানী আরও বলেন, আলজেরিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাম জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক মহলে উপনিবেশ মুক্তির বিষয় হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেছিল। সশস্ত্র প্রতিরোধ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার সমন্বয়ে ফ্রান্সের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সফলভাবে এভিয়ান চুক্তি সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রদূত স্বাধীনতার জন্য আত্মোৎসর্গকারী শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং অবকাঠামো, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, সামাজিক কল্যাণ ও শিক্ষাক্ষেত্রে ‘নতুন আলজেরিয়া’ গঠনের সাফল্যসমূহ তুলে ধরেন।
রাষ্ট্রদূত বিশ্বব্যাপী মুক্তি আন্দোলনসমূহে আলজেরিয়ার ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন এবং শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়ন প্রচারে দেশটির অব্যাহত প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, মার্চ মাস আলজেরিয়া ও বাংলাদেশ- উভয় দেশের জন্যই বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। আলজেরিয়ার বিজয় দিবস ১৯ মার্চ এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ২৬ মার্চ; যা উভয় দেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের প্রতীক।
রাষ্ট্রদূত স্মরণ করিয়ে দেন, ১৯৭১ সালে আলজেরিয়াই প্রথম আরব দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। এটিই দুই দেশের মধ্যে দৃঢ় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের ভিত্তি স্থাপন করে। পরিশেষে বাংলাদেশ ও আলজেরিয়ার সম্পর্ক আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করার মধ্য দিয়ে তিনি তার বক্তব্য শেষ করেন।



ফেসবুক কর্নার