
ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে আরব উপসাগরে হাজার হাজার বাণিজ্যিক জাহাজ আটকে পড়েছে, যার ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বুধবার (১ এপ্রিল) পর্যন্ত অন্তত ২,১৯০টি জাহাজ প্রণালীতে আটকে থাকার তথ্য পাওয়া গেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আটকে পড়া জাহাজগুলোর মধ্যে ৩২০টির বেশি তেল ও গ্যাসবাহী ট্যাংকার রয়েছে। এর মধ্যে ১২টি বড় গ্যাস ক্যারিয়ার এবং প্রায় ৫০টি অপরিশোধিত তেলবাহী সুপার ট্যাংকার। সামুদ্রিক গোয়েন্দা সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার থেকে বুধবার পর্যন্ত মাত্র ৬টি জাহাজ প্রণালী অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২০টি জাহাজ চলাচল করে।
জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করে ইরান নির্দিষ্ট করিডোর ব্যবহার বাধ্যতামূলক করেছে। অনুমোদিত জাহাজগুলো থেকে সর্বোচ্চ ২০ লাখ ডলার পর্যন্ত ফি নেওয়া হচ্ছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘তেহরান টোল বুথ’ নামে পরিচিত হয়ে উঠেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এ পরিস্থিতিতে সৌদি আরব, কাতারসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর রফতানি কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।
এদিকে, উপসাগরজুড়ে প্রায় ২০ হাজার নাবিক জাহাজে আটকা পড়ে আছেন বলে জানা গেছে, যা আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন খাতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই অবরোধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, সরবরাহ সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।