
“সুস্থ শ্রমিক, কর্মঠ হাত—আসবে এবার নবপ্রভাত” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। দিনটি উপলক্ষে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও সামাজিক সংগঠন র্যালি, আলোচনা সভা ও সচেতনতামূলক নানা কর্মসূচির আয়োজন করেছে।
এবারের মে দিবসের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে নারী শ্রমিকদের অধিকার, ন্যায্য মজুরি ও কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের বিষয়টি। বক্তারা বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারী শ্রমিকদের অবদান অপরিসীম হলেও তারা এখনো নানা ধরনের বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন।
গার্মেন্টস, কৃষি ও উৎপাদনমুখী বিভিন্ন খাতে নারী শ্রমিকরা নিরলস পরিশ্রম করলেও অনেক ক্ষেত্রে তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন নিশ্চিত হচ্ছে না। একই কাজের জন্য নারী-পুরুষের মজুরির বৈষম্য, দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, মাতৃত্বকালীন সুবিধার সীমাবদ্ধতা এবং নিরাপদ কর্মপরিবেশের অভাব এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।
আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা বলেন, একটি সুস্থ ও কর্মক্ষম শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে হলে নারী শ্রমিকদের অধিকার সুরক্ষা, সমান মজুরি নিশ্চিত করা এবং সব ধরনের বৈষম্য দূর করা জরুরি। পাশাপাশি শ্রম আইন বাস্তবায়ন এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।
বক্তারা আরও বলেন, মে দিবসের প্রতিপাদ্য কেবল একটি স্লোগান নয়, বরং এটি একটি অঙ্গীকার—যেখানে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকল শ্রমিকের সমান অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে।