May 6, 2026, 10:01 pm
শিরোনাম :
জুরাইনে এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের আড়ালে প্রতারণা, বিলের নামে লাখো টাকা আত্মসাৎ নির্বাচনী সহিংসতা রোধে কুড়িগ্রামে উদ্যোগ, নারীর নিরাপত্তায় জোরালো অঙ্গীকার রোদে স্বস্তি, হাওরে ধান শুকাতে ব্যস্ত জগন্নাথপুরের কৃষকরা ধামরাইয়ে খাল পুনঃখনন শুরু, জলাবদ্ধতা নিরসনে আশার আলো গারো পাহাড় সীমান্তে বন্য হাতির তাণ্ডব, যুবকের মৃত্যু বান্দরবান সদর ইউনিয়নে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের উন্মুক্ত বাজেট সভা অনুষ্ঠিত কুড়িগ্রামে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতে কৃষকের মৃত্যু গবেষণা ও শিক্ষায় জবিকে এগিয়ে নিচ্ছে রসায়ন বিভাগ: উপাচার্য নোয়াখালীতে সিএনজির ধাক্কায় এসএসসি পরীক্ষার্থীর মৃত্যু, আহত ১ সিঙ্গাইরে নকল প্রসাধনী বিক্রির দায়ে ব্যবসায়ীকে জরিমানা

রোদে স্বস্তি, হাওরে ধান শুকাতে ব্যস্ত জগন্নাথপুরের কৃষকরা

অভয়নগর প্রতিবেদক

যাওয়ার পর অবশেষে রোদের দেখা মিলেছে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে। এতে কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন কৃষকরা। তবে সামনে আবার ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় দুশ্চিন্তা পুরোপুরি কাটেনি।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকরা ধান শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। অনেক জায়গায় রাস্তার ওপর, উঠান ও খলায় ধান শুকাতে দেখা গেছে। চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বেতাউকা, বেড়ি ও আশপাশের গ্রামের কৃষকরা রোদ পেলেই দ্রুত ধান শুকানোর কাজে লেগে পড়ছেন।
টানা বৃষ্টিতে হাওরাঞ্চলের বোরো ধান ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জলাবদ্ধতার কারণে অনেক জমির ধান পানির নিচে তলিয়ে যায়। আবার যেসব ধান কাটা হয়েছিল, সেগুলো রোদ না থাকায় খলায় পড়ে নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়। অনেক জায়গায় ধানে চারা গজানোর ঘটনাও দেখা গেছে।
বেতাউকা এলাকার কৃষক লোকমান হেকিম বলেন, “হাওরের একমাত্র ফসল বোরো ধান। এই ধানের ওপরই সারা বছরের সংসার নির্ভর করে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টিতে অর্ধেক ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। ডিজেল সংকট ও শ্রমিকের অভাবে সময়মতো ধান কাটতেও পারিনি।”
বেড়ি গ্রামের কৃষক সালাহ উদ্দিন জানান, তার ২২ কিয়ার জমির মধ্যে বড় অংশই পানির নিচে তলিয়ে গেছে। কিছু ধান তুললেও রোদ না থাকায় শুকাতে পারেননি। এখন রোদ পাওয়ায় সেই ধান বাঁচানোর চেষ্টা চলছে।
স্বজনশ্রী গ্রামের কৃষক সুমন মিয়া বলেন, “প্রায় ৩০০ মণ ভেজা ধান খলায় পড়ে ছিল। রোদ না থাকায় অনেক ধানে চারা গজিয়ে গেছে। এখন কয়েকদিন রোদ থাকলে কিছুটা রক্ষা পাওয়া যাবে।”
এদিকে, কয়েকদিন পর রোদের দেখা পাওয়ায় কৃষকরা ধান কাটা, মাড়াই ও শুকানোর কাজে দ্রুত সময় পার করছেন। কারণ আবার বৃষ্টি শুরু হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
জগন্নাথপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউসার আহমেদ বলেন, “বর্তমান রোদ কৃষকদের জন্য খুবই সহায়ক। ঠিকভাবে ধান শুকাতে পারলে এর গুণগত মান ভালো থাকবে এবং ন্যায্য দাম পাওয়া সম্ভব হবে। আরও দুই-তিন দিন রোদ থাকলে বড় ধরনের ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে।”



ফেসবুক কর্নার