July 17, 2026, 9:36 pm
শিরোনাম :
কাপ্তাই লেকে পানির উচ্চতা বাড়ছে, ১৬টি স্পিলওয়ে গেট খোলার প্রস্তুতি আগে এত উন্নয়নের গল্প শুনতাম, সেগুলো আসলে কোথায়–প্রশ্ন প্রধানমন্ত্রীর হাকিমপুরে এনসিপির ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা-২০২৬’ উপলক্ষে পথসভা মহেশপুরে গাঁজাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার নওয়াপাড়ায় ভৈরব নদে গোসল করতে নেমে গৃহবধূ নিখোঁজ, উদ্ধার অভিযান চলছে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে স্বর্ণালংকার লুটের পর হত্যা, নারী গ্রেপ্তার দোহাজারীতে ত্রাণ বিতরণে মঞ্চ ধস, পরে হুড়োহুড়িতে আহত ১০ দেশে গাড়ি উৎপাদন শুরু হলেই কি দাম কমবে? বাস্তবতা যা বলছে হাজারীবাগে জুতার কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে অনলাইন জুয়ার এজেন্ট গ্রেপ্তার, নগদ অর্থ ও সরঞ্জাম জব্দ

দেশে গাড়ি উৎপাদন শুরু হলেই কি দাম কমবে? বাস্তবতা যা বলছে

স্টাফ রিপোর্টার: সাদমান হাসান

বাংলাদেশে গাড়ি উৎপাদনের উদ্যোগকে ঘিরে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। অনেকের ধারণা, দেশে গাড়ি তৈরি শুরু হলেই এর দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। তবে শিল্প ও অর্থনীতির বাস্তবতা বলছে, বিষয়টি এতটা সরল নয়।

বিশ্বের শীর্ষ অটোমোবাইল উৎপাদনকারী দেশ—জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, চীন ও ভারত—দীর্ঘ কয়েক দশকের পরিকল্পিত শিল্পায়ন, প্রযুক্তি উন্নয়ন, দেশীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং দক্ষ জনবল তৈরির মাধ্যমে বর্তমান অবস্থানে পৌঁছেছে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও একই ধরনের দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশের অভ্যন্তরীণ গাড়ির বাজার তুলনামূলক ছোট। জনসংখ্যার অনুপাতে ব্যক্তিগত গাড়ির সংখ্যা এখনও কম হওয়ায় বিপুল বিনিয়োগে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি উৎপাদন শিল্প গড়ে তোলা সহজ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গাড়ি সংযোজন (Assembly) এবং পূর্ণাঙ্গ উৎপাদন (Manufacturing) এক বিষয় নয়। অধিকাংশ যন্ত্রাংশ বিদেশ থেকে এনে দেশে শুধু জোড়া লাগানো হলে তা প্রকৃত উৎপাদন হিসেবে বিবেচিত হয় না। প্রকৃত উৎপাদনের জন্য ইঞ্জিন, গিয়ারবক্স, ইলেকট্রনিক্সসহ বিভিন্ন যন্ত্রাংশের উল্লেখযোগ্য অংশ দেশেই উৎপাদিত হওয়া, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন এবং স্থানীয় শিল্পের অংশগ্রহণ বাড়ানো জরুরি।

একটি শক্তিশালী অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তুলতে শুধু একটি কারখানাই যথেষ্ট নয়। এর সঙ্গে প্রয়োজন যন্ত্রাংশ উৎপাদনকারী শত শত প্রতিষ্ঠান, উন্নত ইস্পাত, প্লাস্টিক, রাবার ও ইলেকট্রনিক্স শিল্প, গবেষণা ও উন্নয়ন (R&D), দক্ষ প্রকৌশলী এবং কার্যকর সরবরাহ ব্যবস্থা।

এছাড়া শিল্পনীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রেও ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। যদি সীমিত কয়েকটি প্রতিষ্ঠান বিশেষ সুবিধা পায়, তবে বাজারে প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে, যা ভোক্তার জন্য মানসম্মত ও সাশ্রয়ী গাড়ি পাওয়ার সুযোগ সীমিত করবে। অন্যদিকে দেশীয় শিল্প সুরক্ষার পাশাপাশি প্রযুক্তি স্থানান্তর, নতুন বিনিয়োগ, স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন এবং সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে দীর্ঘমেয়াদে একটি শক্তিশালী অটোমোবাইল শিল্প গড়ে তোলা সম্ভব।

অর্থনীতিবিদদের মতে, বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ হলো ধাপে ধাপে অগ্রসর হওয়া—প্রথমে গাড়ি সংযোজন, এরপর স্থানীয় যন্ত্রাংশ উৎপাদন বৃদ্ধি, স্থানীয় মূল্য সংযোজন বাড়ানো এবং পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ গাড়ি উৎপাদনের সক্ষমতা অর্জন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল প্রশ্ন শুধু দেশে গাড়ি তৈরি হবে কি না, তা নয়; বরং কীভাবে এমন একটি শিল্পনীতি গড়ে তোলা যায়, যাতে দেশীয় শিল্প বিকশিত হয়, সাধারণ মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে মানসম্মত গাড়ি কিনতে পারে এবং বাংলাদেশ ভবিষ্যতে প্রতিযোগিতামূলক অটোমোবাইল উৎপাদনকারী দেশে পরিণত হতে পারে।

শুধু ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ লেখা থাকলেই গাড়ির দাম রাতারাতি কমে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবসম্মত নয়। গাড়ির মূল্য কমাতে উৎপাদন সক্ষমতা, স্থানীয় যন্ত্রাংশ শিল্প, বাজারের আকার, প্রতিযোগিতা এবং কার্যকর শিল্পনীতির সমন্বিত উন্নয়ন অপরিহার্য।



ফেসবুক কর্নার