
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে অপহরণ করে মারধর, তার পকেটে ইয়াবা রেখে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে ফাঁসানোর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য রেকর্ড করে সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী কিশোরের বাবা মো. রাহেন মণ্ডল বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় কয়া ইউনিয়নের বেড়কালোয়া গ্রামের জাহাঙ্গীর ও রজিবের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩–৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জুলাই ২০২৬ সকাল ১১টার দিকে চাপড়া ইউনিয়নের জয়নাবাদ মণ্ডলপাড়ার বাসিন্দা মো. রাফিজ (১৫) খোকসা উপজেলার চরপাড়ায় নানার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কুমারখালী পৌরসভার সিএনজি স্ট্যান্ডে নামার পর অভিযুক্তরা তাকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে বেড়কালোয়া গ্রামে নিয়ে যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে একটি কক্ষে আটকে রেখে মাথায় আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে তাকে মারধর করা হয়। পরে তার পকেটে কৌশলে ইয়াবা ঢুকিয়ে দিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা সেবন ও ব্যবসার কথা স্বীকার করিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে সেই ভিডিও স্থানীয় কিছু ব্যক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
পরিকল্পনার অংশ হিসেবে অভিযুক্তদের একজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কিশোরকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর সিসিটিভি ফুটেজ, তথ্যপ্রযুক্তি এবং স্থানীয়দের বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে কিশোরটিকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।
কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, ঘটনার শুরু থেকেই বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তদন্ত শুরু করা হয়। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে যে, কিশোরটিকে অন্যায়ভাবে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় অপহরণ মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য সহযোগীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।