
জামালপুরের বকশীগঞ্জে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় দুই আসামি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। ভুক্তভোগী কিশোরী বর্তমানে সন্তান প্রসবের শেষ সময়ের অপেক্ষায় রয়েছেন। দরিদ্র পরিবারের পক্ষে তাঁর চিকিৎসা ও প্রসবকালীন ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে মামলা তুলে নিতে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে পরিবারটি।
থানা এজাহার, পুলিশ প্রতিবেদন ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বগারচর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের দিনমজুর মো. মানিক মিয়ার ১৭ বছর বয়সী মেয়ে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, একই এলাকার মো. রোমান মিয়া ওরফে রশিদ তাঁকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে গত ২ জানুয়ারি রাতে বাড়িতে একা পেয়ে ধর্ষণ করেন এবং ভয়ভীতি দেখান। পরে শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসা পরীক্ষায় অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয় বলে পরিবারের দাবি। এ ঘটনায় মানিক মিয়া বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলার আসামি রোমান মিয়া ও রাব্বি হাসানকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
ভুক্তভোগীর বাবা অভিযোগ করেন, মামলা দায়েরের পর আসামিপক্ষের লোকজন মামলা তুলে নিতে চাপ ও হুমকি দিচ্ছেন। এ ঘটনায় গত ১৯ সেপ্টেম্বর বকশীগঞ্জ থানায় জিডি করেছেন তিনি। তবে শিক্ষক মো. সেলিম মিয়া তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা হুমকির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। বকশীগঞ্জ থানার ওসি মকবুল হোসেন জানান, আসামিদের গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে এবং পরিবারকে হুমকির বিষয়ে করা জিডি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পরিবারটি কিশোরী ও তাঁর অনাগত সন্তানের চিকিৎসা এবং নিরাপত্তায় দ্রুত সহযোগিতা চেয়েছে।