
পাবনা সদর উপজেলার শিবরামপুর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গত ছয় মাসে চারবার চুরির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক এসব চুরিতে বিদ্যালয়ের প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এতে শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে বুধবার (২২ জুলাই) দুপুরে বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অংশগ্রহণে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, চলতি বছরের জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি, ২৩ জুন এবং সর্বশেষ চুরির ঘটনাসহ মোট চারবার বিদ্যালয়ে চুরি হয়েছে। প্রতিবারই পাবনা সদর থানায় লিখিত অভিযোগ এবং উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসকে অবহিত করা হলেও কার্যকর কোনো প্রতিকার মেলেনি।
মানববন্ধনে বক্তারা বিদ্যালয়ে স্থায়ী নৈশপ্রহরী নিয়োগ, চুরি হওয়া সরকারি মালামাল উদ্ধার, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুকাইয়া আক্তার, রুকু ও রাসেল জানায়, চুরির কারণে শ্রেণিকক্ষের ফ্যান খুলে নেওয়া হয়েছে। ফলে তীব্র গরমে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। দরজা-জানালার বিভিন্ন অংশ খুলে নেওয়ায় বৃষ্টির পানি শ্রেণিকক্ষে ঢুকে শিক্ষার পরিবেশ আরও নষ্ট হচ্ছে।
শিক্ষক সুলতানা ইয়াসমিন শেলী ও সাইদ হোসেনের অভিযোগ, স্থানীয় মাদকাসক্ত ও সংঘবদ্ধ চোরচক্র ধারাবাহিকভাবে এসব চুরি করছে। একাধিক অভিযোগের পরও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন তারা।
বিদ্যালয়ের শিক্ষক মো. শামীম হোসেন বলেন, বারবার চুরির ঘটনায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দিয়ে দ্রুত তদন্ত, নৈশপ্রহরী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, পুলিশি টহল বৃদ্ধি এবং বিদ্যালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তারিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বের ঘটনাগুলোর তদন্ত করা হলেও চোর শনাক্ত বা মালামাল উদ্ধার সম্ভব হয়নি। সর্বশেষ ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
পাবনা সদর উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সাঈদা শবনম বলেন, ধারাবাহিক চুরির ঘটনায় শিক্ষকদের মতো প্রশাসনও উদ্বিগ্ন। তবে নৈশপ্রহরী নিয়োগের বিষয়টি অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।
এদিকে পাবনার জেলা প্রশাসক আমিনুল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ে নৈশপ্রহরী নিয়োগ, সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনসহ নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে এবং দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের চেষ্টা করা হবে।