
দীর্ঘ ২০ বছরের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে জন্মদাতা বাবাকে ফিরে পেয়েছেন মোহাম্মদ সজীব খান। বুধবার (১২ আগস্ট ২০২৬) সকালে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালী এসে বাবার সন্ধান পান তিনি। পরে বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নে গিয়ে বাবার সঙ্গে দেখা হলে সৃষ্টি হয় আবেগঘন এক মানবিক মুহূর্ত।
জানা যায়, ২০০০ সালের ১২ নভেম্বর বাউফল উপজেলার সূর্যমনি ইউনিয়নের মোহাম্মদ ইউনুস খানের ছেলে মোহাম্মদ আবু সালেহ খান ২০ হাজার টাকা দেনমোহরে মোসাম্মৎ ফাতেমা বেগম ওরফে খুশিকে বিয়ে করেন। দাম্পত্য জীবনের শুরুতে তাদের সংসার ভালোই চলছিল। এ সংসারে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান, মোহাম্মদ সজীব খান। তবে পরবর্তীতে পারিবারিক নানা টানাপোড়েনে তাদের দাম্পত্য সম্পর্কে ফাটল ধরে এবং একপর্যায়ে বিচ্ছেদ ঘটে। তখন সজীবের বয়স ছিল মাত্র চার মাস।
বিচ্ছেদের পর বাবা আবু সালেহ খান বাউফলে চলে আসেন এবং মা ফাতেমা বেগমও পরবর্তীতে অন্য সংসারে চলে যান। এরপর দীর্ঘ সময় বাবা-মায়ের সঙ্গে সজীবের কোনো যোগাযোগ ছিল না। কুমিল্লায় নানা-খালাদের স্নেহে বেড়ে ওঠেন তিনি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জন্মদাতা বাবাকে একবার দেখার আকাঙ্ক্ষা তীব্র হয়ে ওঠে তার।
সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই বুধবার সকাল ৮টার দিকে কুমিল্লা থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে রওনা দেন সজীব। বিষয়টি জানতে পেরে জাতীয় দৈনিক অভয়নগরের পটুয়াখালী প্রতিনিধি মোঃ মাসুদ খান পটুয়াখালী বাসস্ট্যান্ডে গিয়ে তার সঙ্গে কথা বলেন। পরে সজীবকে সঙ্গে নিয়ে বাবার বাড়ির সন্ধানে বাউফলের সূর্যমনি ইউনিয়নে যান তিনি। দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সজীবের বাবা মোহাম্মদ আবু সালেহ খানের মোবাইল নম্বর পাওয়া যায়। যোগাযোগের পর আবু সালেহ খান ও তার বাবা মোহাম্মদ ইউনুস খান সাংবাদিকের সঙ্গে দেখা করেন।
আলোচনা শেষে আবু সালেহ খান তার ছেলে সজীবকে সন্তানের স্বীকৃতি দেন। দীর্ঘ দুই দশক পর বাবা-ছেলের মধ্যে তৈরি হয় নতুন সম্পর্কের সেতুবন্ধন। সজীবকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান বাবা। দীর্ঘদিন পর বাবার সান্নিধ্য পেয়ে সজীবের চোখেমুখে ফুটে ওঠে স্বস্তি ও আনন্দ। ছেলেকে কাছে পেয়ে আবু সালেহ খানও আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বিচ্ছেদ, অপেক্ষা ও অনিশ্চয়তার পর বাবা-ছেলের এই পুনর্মিলন পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি করে