টানা প্রায় ১০ দিনের তীব্র লোডশেডিংয়ের পর গত তিন দিনে কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকার ভোগান্তি কমে আসায় স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে জনজীবন। তবে গতকাল থেকে আবারও কিছুটা বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হওয়ায় দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় শিশু ও বয়স্কদের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ব্যবসা ও বিভিন্ন উৎপাদনমুখী প্রতিষ্ঠানও ভোগান্তিতে পড়ে। বিদ্যুতের অভাবে জেলার ছোট ছোট কলকারখানার কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
কুড়িগ্রাম নেসকোর এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, গত তিন দিন ধরে জাতীয় গ্রিড থেকে কুড়িগ্রামে প্রায় ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে। জেলার প্রায় ৩৮ হাজার গ্রাহকের চাহিদা ১২ থেকে ১৩ মেগাওয়াট। সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় লোডশেডিং উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। তবে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ এখনও কম থাকায় পুরোপুরি লোডশেডিংমুক্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, কয়েক দিন আগেও দিনের বিভিন্ন সময়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকত না। এখন সরবরাহ বাড়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এদিকে কুড়িগ্রাম ও লালমনিরহাট জেলার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতায় প্রায় ৬ লাখ ৭৫ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। দুই জেলায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদা প্রায় ৮০ থেকে ৯০ মেগাওয়াটের বিপরীতে বর্তমানে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৭০ মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে সাময়িকভাবে পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে সাময়িক স্বস্তির পাশাপাশি স্থায়ী সমাধানের দাবিও জোরালো হচ্ছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, কুড়িগ্রামের চাহিদা অনুযায়ী পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে জনজীবনের পাশাপাশি ক্ষুদ্র শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও গ্রামীণ অর্থনীতিও আরও গতিশীল হবে। কয়েক দিন স্বস্তির পর যেন আবার দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিং ফিরে না আসে, সে জন্য চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি স্থায়ীভাবে কমাতে এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা। নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হলে কুড়িগ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা আরও স্থিতিশীল হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।