
যশোর শহরের বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় স্বর্ণ কারিগর আল-আমিন হোসেন (২৯) হত্যা মামলায় মো. আলামিন ওরফে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ (৩১) নামে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৬। রোববার (২৩ আগস্ট) শহরের মনিহার মোড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। নিহত আল-আমিন হোসেন পূর্ব বারান্দীপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি যশোর শহরের চৌরাস্তা মোড়ের স্বর্ণপট্টিতে স্বর্ণের কারিগর হিসেবে কাজ করতেন এবং সেখানে তাঁর একটি দোকান ছিল।
মামলা ও পুলিশের আদালতে দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ২০ আগস্ট সকাল সাড়ে ৯টার দিকে প্রতিদিনের মতো বাসা থেকে দোকানের উদ্দেশ্যে বের হন আল-আমিন। বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে দোকানে অবস্থানকালে তাঁর মোবাইল ফোনে একটি কল আসে। ফোনে তাঁকে একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে হাসপাতালে নেওয়ার কথা জানানো হয়। এরপর দোকান থেকে বের হয়ে তিনি আর ফিরে আসেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা জানতে পারেন, তাঁকে হত্যা করে বারান্দীপাড়া লিচুতলা এলাকায় ফেলে রাখা হয়েছে। খবর পেয়ে তাঁর মা আয়শা বেগম লিচুতলা মাদরাসার পেছনের একটি মেহগনি বাগানে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে নিহত আল-আমিনের সঙ্গে গ্রেপ্তার আলামিনসহ কয়েকজনের পূর্ববিরোধের তথ্য পাওয়া গেছে। আদালতে দেওয়া পুলিশের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পূর্ববিরোধের জেরে আলামিন ও তাঁর সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে আল-আমিনকে ঘটনাস্থলে ডেকে নিয়ে হত্যা করে থাকতে পারেন। তদন্তে আরও জানা গেছে, ঘটনার আগে তাঁদের মধ্যে হাতাহাতি ও হুমকি-ধমকির ঘটনা ঘটেছিল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই মিজানুর রহমান জানান, ঘটনার কিছু সময় আগে ‘ব্ল্যাক আলামিন’ নিহতকে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিয়েছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের দাবি, আলামিনের বিরুদ্ধে যশোরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, অস্ত্র, মাদক, মারামারি, চুরি ও নারী নির্যাতনসহ একাধিক মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।