
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক নিপীড়নের শিকার বিএনপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেছে। এর ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দলটির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি দাবি করেন, বিএনপি বিরোধী দলে থাকাকালে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে, ক্ষমতায় এসে সেই একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান ঘাটতি, চাঁদাবাজি ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ নিয়েও তিনি সরকারের সমালোচনা করেন।
সারজিস আলম বলেন, বিএনপি এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিলেও ছয় মাসে সে লক্ষ্যের কাছাকাছি যেতে পারেনি। বরং অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব বিদ্যুৎ, কৃষি, উৎপাদন ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খাতে পড়ছে বলেও মন্তব্য করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয়কে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে এবং চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া কর্মকর্তাদের হয়রানি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও করেন তিনি। নারী ইউএনওদের হেনস্তা এবং সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলমকে বদলির প্রসঙ্গ তুলে তিনি এসব ঘটনাকে প্রশাসনে দলীয় প্রভাব বিস্তারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
বিএনপিকে সতর্ক করে সারজিস আলম বলেন, এনসিপি ভালো কাজের প্রশংসা করবে এবং সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা অব্যাহত রাখবে। সমালোচনার কারণে হুমকি এলেও তারা পিছপা হবেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি। জনগণ দীর্ঘদিন কোনো ধরনের জুলুম সহ্য করবে না উল্লেখ করে বিএনপিকে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি পাহাড়ি ও প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য যৌক্তিক কোটা রাখার পক্ষে মত দেন। তবে কোটা ব্যবস্থাকে কেন্দ্র করে নিয়োগ বাণিজ্য এবং পার্বত্য জেলা পরিষদে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ তুলে তিনি এসবের প্রতিবাদ জানান। সভায় এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।