
রাজনৈতিক দলের সব পর্যায়ের কমিটিতে ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহ। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো এ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত জাতীয় নির্বাচন পর্যবেক্ষণ প্রতিবেদন উপস্থাপন ও অংশীজনদের সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। অ্যালায়েন্স ফর ফেয়ার ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (এএফইডি) ও ইউরোপিয়ান পার্টনারশিপ ফর ডেমোক্রেসি (ইপিডি) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
সংলাপে দেশের সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন ও ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে বক্তব্য দেন সানাউল্লাহ। তিনি বলেন, সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচন তুলনামূলকভাবে সহিংসতামুক্ত রাখার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর সদিচ্ছা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও রাজনৈতিক দলগুলো একই ধরনের দায়িত্বশীলতা দেখাবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। স্থানীয় নির্বাচনে সহিংসতার প্রবণতা তুলনামূলক বেশি হওয়ায় নির্বাচন কমিশন বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে বলেও জানান। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করার দায়িত্ব কমিশনের।
মনোনয়ন পেলেই নির্বাচনে জয় নিশ্চিত—এমন ধারণা থেকে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান এই নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, জনগণের ভোটেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন এবং পুরো প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ রাখা হবে। নারী নেতৃত্বের বিষয়ে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতিটি স্তরের কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধির বিষয়টিও রাজনৈতিক দলগুলোর অঙ্গীকারের সঙ্গে সম্পর্কিত। আরপিও অনুযায়ী ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে বলে সতর্ক করেন তিনি।