August 27, 2026, 7:26 am

জনবল সংকটে মঠবাড়িয়া প্রাণিসম্পদ হাসপাতাল

জহির রায়হান, স্টাফ রিপোর্টার, পিরোজপুর

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকটে খুঁড়িয়ে চলছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কার্যক্রম। গুরুত্বপূর্ণ এই প্রতিষ্ঠানে ১১টি অনুমোদিত পদের মধ্যে আটটিই শূন্য থাকায় মাত্র তিনজন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে পুরো উপজেলার চিকিৎসা ও দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে। এতে মাঠপর্যায়ে প্রাণিসম্পদ সেবা, টিকাদান, চিকিৎসা ও বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মঠবাড়িয়ার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় মোট ৪৬৮টি খামার রয়েছে। এর মধ্যে দুগ্ধ খামার ১১৪টি, ছাগলের ৩০টি, ভেড়ার দুটি, লেয়ার মুরগির ৩০টি, ব্রয়লার ২৩২টি, হাঁসের ১৭টি, কবুতরের ৩৮টি এবং কোয়েলের পাঁচটি খামার রয়েছে।
এসব খামারে বিপুলসংখ্যক গবাদিপশু ও পাখি রয়েছে। দপ্তরের তথ্যমতে, উপজেলায় গরু রয়েছে ৮২ হাজার ৫২০টি, মহিষ ৩৪০টি, ছাগল ৩১ হাজার ৭৫০টি, ভেড়া ২১০টি, মুরগি প্রায় ১৩ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০টি, কবুতর ৩ লাখ ২১ হাজার ১১০টি এবং কোয়েল ৬ হাজার ৩০০টি। এত বিপুল প্রাণিসম্পদের বিপরীতে বর্তমানে দায়িত্ব পালন করছেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা. নুর আলম, উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা দিলীপ কুমার নাথ এবং অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহমুদ-উল হাসান রাফি। জনবল না থাকায় জরুরি সময়ে চিকিৎসাসেবা পেতে সমস্যায় পড়ছেন খামারিরা। বাধ্য হয়ে অনেকেই বেসরকারি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হচ্ছেন, এতে তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে।
আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের গোলবুনিয়া গ্রামের খামারি মিজানুর রহমান বলেন, তার আটটি গবাদিপশু রয়েছে। অসুস্থ হলে অনেক সময় হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক বা জনবল না পেয়ে বেসরকারি চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহা. নুর আলম বলেন, বড় একটি উপজেলায় অর্ধেকেরও কম জনবল নিয়ে কার্যক্রম পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। জনবল সংকটে মাঠপর্যায়ে টিকাদান, বিনামূল্যে চিকিৎসা ক্যাম্প, উঠান বৈঠক এবং দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা ব্যাহত হচ্ছে। মাঠ থেকে জরুরি চিকিৎসার খবর পেলেও দ্রুত সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ওষুধের কোনো সংকট নেই এবং সীমিত জনবল নিয়েই নিয়মিত সেবা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।



ফেসবুক কর্নার