September 2, 2026, 5:51 am

১২০ দিনের প্রশিক্ষণে ১৯–২৬ দিন উপস্থিত, তবুও সার্টিফিকেট

আহসান হাবীব বাপ্পী, বিশেষ প্রতিনিধি

যশোর যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের অধীনে পরিচালিত ছয় মাস মেয়াদি ‘মডার্ন অফিস ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কম্পিউটার’ প্রশিক্ষণ কোর্সের কয়েকজন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের দ্বিতীয় ধাপের এ প্রশিক্ষণ কোর্সে নির্ধারিত ১২০ কার্যদিবসের বিপরীতে তিন শিক্ষার্থীর উপস্থিতি পাওয়া গেছে মাত্র ১৯, ২০ ও ২৬ কার্যদিবস। এরপরও তাদের প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সার্টিফিকেট দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দপ্তর থেকে পাওয়া উপস্থিতির সিটে এ তথ্য উল্লেখ রয়েছে বলে জানা গেছে। নথি অনুযায়ী, মো. তৌফিক আহমেদের উপস্থিতি ২০ দিন, ফইজুন নাহারের ২৬ দিন এবং মো. মুশফিকুর রহমানের উপস্থিতি ১৯ কার্যদিবস। এত কম উপস্থিতির পরও কীভাবে তারা প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সার্টিফিকেট পেলেন, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উল্লেখিত তিন শিক্ষার্থী প্রশিক্ষণ সম্পন্নের সার্টিফিকেট পেয়েছেন। তবে নির্ধারিত সময়ের তুলনায় তাদের এত কম উপস্থিতির পর সার্টিফিকেট প্রদানের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম বা সিদ্ধান্ত অনুসরণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে স্পষ্টতা পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিয়ে যশোর যুব উন্নয়নের উপ-পরিচালক খন্দকার জাকির হোসেনের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে অভিযোগ প্রতিবেদকের। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীদের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। মো. তৌফিক আহমেদ ও ফইজুন নাহার ফোন রিসিভ করেননি। মো. মুশফিকুর রহমান ফোন রিসিভ করলেও প্রশিক্ষণ বিষয়ে জানতে চাইলে কোনো বক্তব্য না দিয়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তাদের প্রশিক্ষণে প্রকৃত অংশগ্রহণের বিষয়ে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে, এত কম উপস্থিতির পর সার্টিফিকেট দেওয়ার পেছনে কোনো প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, প্রভাব কিংবা আর্থিক লেনদেন ছিল কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। তবে আর্থিক লেনদেনের কোনো প্রত্যক্ষ প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে আসেনি; বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও সন্দেহের পর্যায়ে রয়েছে। উপ-পরিচালক খন্দকার জাকির হোসেনের কাছে সরাসরি বক্তব্য ও ক্যামেরার সামনে সাক্ষাৎকার চাওয়া হলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার অনুমতি ছাড়া ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে পারবেন না বলে জানান। ফলে সার্টিফিকেট প্রদানের সিদ্ধান্ত কীভাবে এবং কার অনুমোদনে নেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট উত্তর পাওয়া যায়নি। সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে নির্ধারিত ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ১৯, ২০ ও ২৬ দিন উপস্থিত থাকা শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদানের বৈধতা ও প্রক্রিয়া নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি উঠেছে। একই সঙ্গে কোনো অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেন হয়ে থাকলে তা তদন্ত করে প্রকৃত তথ্য প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।



ফেসবুক কর্নার