September 2, 2026, 5:52 am

সুন্দরবনে চার জলদস্যু বাহিনীর ৫২ সদস্যের আত্মসমর্পণ

সোহরাব হোসেন রতন বাগেরহাট

সুন্দরবনে সক্রিয় চারটি জলদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ ৫২ সদস্য র‍্যাব-৬-এর কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন। গত তিন দিনে সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় র‍্যাব-৬-এর উদ্যোগে আয়োজিত পৃথক কার্যক্রমে তারা আত্মসমর্পণ করেন। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র‍্যাব-৬-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিস্তার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। র‍্যাব-৬-এর মিডিয়া শাখা জানায়, আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে বড় জাহাঙ্গীর বাহিনীর ১৬ জন, আফজাল ওরফে দুলাভাই বাহিনীর ১৫ জন, আনারুল বাহিনীর ১৩ জন এবং আফতাব বাহিনীর আটজন রয়েছেন। চার বাহিনীর প্রধানও আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে রয়েছেন।
র‍্যাব জানায়, সুন্দরবনের ওপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালসহ হাজারো মানুষ দীর্ঘদিন ধরে জলদস্যুদের অপহরণ, মুক্তিপণ আদায় ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছিলেন। সুন্দরবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে র‍্যাবের গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান জোরদারের পর বিভিন্ন দস্যু বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে অপরাধের পথ ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আগ্রহ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় চারটি বাহিনীর ৫২ সদস্য আত্মসমর্পণ করেন। র‍্যাবের দাবি, একসঙ্গে চারটি বাহিনীর সদস্যদের আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবনে দস্যুদের সাংগঠনিক সক্ষমতা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড কমবে।
র‍্যাব-৬ জানিয়েছে, আত্মসমর্পণকারীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আদালতে সোপর্দ করা হবে। সুন্দরবনে জলদস্যুতা, অপহরণ ও মুক্তিপণ আদায়সহ সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে। এদিকে, তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা শেষে মঙ্গলবার থেকে বিধিবিধান ও অনুমতি সাপেক্ষে সুন্দরবন পর্যটক ও বনজীবীদের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত হয়েছে। এর ঠিক আগের দিন ৫২ জলদস্যুর আত্মসমর্পণকে সুন্দরবনের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছে র‍্যাব। সংশ্লিষ্টদের আশা, দস্যুদের এই আত্মসমর্পণের ফলে সুন্দরবননির্ভর মানুষের জীবিকা নির্বাহ আরও নিরাপদ হবে।



ফেসবুক কর্নার