September 2, 2026, 5:53 am

চাকরির প্রলোভন ও নারীদের প্রতারণার অভিযোগ, তনয়কে ঘিরে নতুন প্রশ্ন

অভয়নগর প্রতিবেদক

চাকরি দেওয়ার আশ্বাসে অর্থ নেওয়া ও এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগের পর আশরাফুল কবির তনয়কে ঘিরে আরও গুরুতর কিছু অভিযোগ সামনে এসেছে। অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের বক্তব্যে দাবি করা হচ্ছে, চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নারীদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন, তাদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়া এবং পরে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে। অভিযোগের আরও একটি অংশে দাবি করা হয়েছে, চাকরির কথা বলে কোনো কোনো নারীকে ঢাকায় এনে হোটেলে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের সঙ্গে জোরপূর্বক শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো আদালত বা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে অভিযোগগুলোর প্রতিটি অংশের নিরপেক্ষ যাচাই প্রয়োজন।
অনুসন্ধানে উঠে আসা অভিযোগ অনুযায়ী, চাকরি দেওয়ার কথা বলে নারীদের সঙ্গে প্রথমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হতো। এরপর চাকরির সুযোগ, ভাইভা কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাতের কথা বলে তাদের ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের কেউ কেউ দাবি করেছেন, এভাবে আস্থা অর্জনের পর তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের টাকা নেওয়া হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে চাকরির আশ্বাস দেওয়া হলেও পরবর্তীতে প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ রয়েছে। নাছরিনের অভিযোগের ক্ষেত্রেও তিন লাখ টাকা নেওয়া, ঢাকায় নিয়ে যাওয়া এবং হোটেলে ধর্ষণের অভিযোগ রয়েছে। আরও কয়েকজন নারীর সঙ্গে একই ধরনের আচরণের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি এখন নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে এসব দাবির পক্ষে থাকা কথোপকথন, অর্থ লেনদেনের তথ্য, যাতায়াতের রেকর্ড, হোটেলের নথি বা সিসিটিভি ফুটেজ স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে আশরাফুল কবির তনয়ের বক্তব্যও অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তিনি নাছরিনের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নেওয়া এবং তার সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, চাকরির সূত্রেই নাছরিনের সঙ্গে পরিচয় এবং পরে তাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল। তবে একাধিক নারীর কাছ থেকে একই ধরনের অভিযোগ ওঠার দাবি সত্য কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট নারীদের বক্তব্য, যোগাযোগের তথ্য, আর্থিক লেনদেন, কথিত চাকরির প্রতিষ্ঠানের নথি এবং অন্যান্য ডিজিটাল প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো নারীকে চাকরির প্রলোভনে হোটেলে নিয়ে গিয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ সত্য হলে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর যথাযথ তদন্ত দাবি করে। জাতীয় দৈনিক অভয়নগর অভিযোগগুলোকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে নয়, বরং যাচাইযোগ্য অভিযোগ হিসেবে সামনে রাখছে। অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে অর্থ লেনদেন, কথিত চাকরির সুযোগ, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ এবং অভিযোগে উল্লিখিত ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা হবে।



ফেসবুক কর্নার