September 4, 2026, 4:29 am

সেচ সংকটে নওগাঁর কৃষক, ধানের দামে হতাশা

জালাল হোসেন

নওগাঁয় ধান চাষে বাড়ছে উৎপাদন খরচ। প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়া, বাড়তি দামে সার কেনা এবং বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে সেচ ব্যাহত হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। এর মধ্যে বাজারে ধানের দাম প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় ফসল ঘরে তুলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন তাঁরা। কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বীজ, সার, কীটনাশক, সেচ ও শ্রমিকের মজুরি—প্রায় সব খাতেই আগের তুলনায় ব্যয় বেড়েছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে সময়মতো জমিতে পানি দিতে না পারায় ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ফলন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
কৃষকদের অভিযোগ, প্রয়োজনের সময় অনেক ক্ষেত্রেই পর্যাপ্ত সার পাওয়া যায় না। কোথাও সার মিললেও বাড়তি দামে কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। সময়মতো সার ও সেচের পানি না পাওয়ায় অনেক জমিতে কাঙ্ক্ষিত ফলন হবে কি না, তা নিয়েও দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তাঁরা। এদিকে ফসল বিক্রি করতে গিয়ে আরও হতাশ হতে হচ্ছে কৃষকদের। তাঁদের দাবি, নিম্নমানের আউশ ধান কোথাও কোথাও প্রায় ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। উৎপাদন খরচের তুলনায় এ দাম অত্যন্ত কম বলে মনে করছেন তাঁরা। এক কৃষক বলেন, সার কিনতে সমস্যা এবং সেচের সময় বিদ্যুৎ না পাওয়ার পরও কষ্ট করে ধান ফলাতে হচ্ছে; কিন্তু বাজারে ন্যায্য দাম না পেলে কৃষকের লাভের সুযোগ থাকে না।
কৃষকদের মতে, শুধু উৎপাদন বাড়ানোর উদ্যোগ নিলেই হবে না; উৎপাদন খরচ কমানো, সময়মতো সার ও সেচের নিশ্চয়তা এবং ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা জরুরি। আরেক কৃষকের ভাষ্য, প্রতিবছর উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও ধানের দাম সেই অনুযায়ী বাড়ছে না। কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক ধান চাষে আগ্রহ হারাতে পারেন। এতে দেশের খাদ্য উৎপাদনেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। কৃষকদের দাবি, ফসল উৎপাদনের পর যাতে অন্তত উৎপাদন খরচ উঠে আসে এবং তাঁরা ন্যায্য লাভ পান, সে জন্য কার্যকর বাজারব্যবস্থা ও কৃষিবান্ধব পদক্ষেপ জরুরি।



ফেসবুক কর্নার