September 6, 2026, 9:24 am

রাতে কবর খুঁড়ে মরদেহ দরবারে পুনঃস্থাপন

তানভীর আজাদ জাহিদ দৌলতপুর কুষ্টিয়া প্রতিনিধি

কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে কথিত পীর মো. আব্দুর রহমান ওরফে শামীম জাহাঙ্গীর কালান্দার বাবার দাফন করা মরদেহ প্রায় পাঁচ মাস পর কবর থেকে তুলে তার দরবারে পুনরায় প্রতিস্থাপনের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতের কোনো এক সময় ভক্তরা কবর থেকে মরদেহটি উত্তোলন করে দরবারে নিয়ে যান বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। স্থানীয়রা জানান, পীর শামীম জাহাঙ্গীরের মৃত্যুর পর থেকেই তার ভক্তদের একটি অংশ মরদেহ কবর থেকে তুলে দরবারে পুনরায় প্রতিস্থাপনের চেষ্টা করে আসছিলেন। এ কারণে দাফনের পর কিছুদিন কবরস্থানে পুলিশি পাহারাও ছিল।
নিহতের ভাই মো. ফজলুর রহমান বলেন, রাতের আঁধারে কারা কীভাবে কবরস্থান থেকে মরদেহ তুলে দরবারে নিয়ে গেছে, সে বিষয়ে তারা কিছুই জানেন না। সকালে বিষয়টি দেখতে পেয়ে পুলিশ প্রশাসনকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করে দরবারে প্রতিস্থাপনের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। বিষয়টি জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতির আশঙ্কা নেই বলেও জানান তিনি। দৌলতপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাসও ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেছেন বলে জানান।
উল্লেখ্য, গত ১১ এপ্রিল ফিলিপনগর ইউনিয়নে শামীম জাহাঙ্গীর ওরফে আব্দুর রহমানের দরবারে পবিত্র কোরআন অবমাননার অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিক্ষুব্ধ জনতা দরবারে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় তাকে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল নিহতের বড় ভাই মো. ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে প্রধান আসামি করে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে দরবারে পুনঃস্থাপনের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয়রা।



ফেসবুক কর্নার