দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পানি ব্যবস্থাপনা, কৃষি, নদীভাঙন রোধ ও সেচব্যবস্থার উন্নয়নে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের সম্ভাবনা যাচাইয়ে কুষ্টিয়া সফর করেছেন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এমপি। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশহরিপুর ইউনিয়নের শালদাহ এলাকায় প্রকল্পের সম্ভাব্য স্থান সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ এমপি, মন্ত্রীর একান্ত সচিব (উপসচিব) মাসুম রেজা, তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা নাসির উদ্দীনসহ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরিদর্শনকালে বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন, কুষ্টিয়া-১ আসনের সংসদ সদস্য রেজা আহমেদ বাচ্চু মোল্লা, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফরিদা ইয়াসমিন, কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার রাগীব রউফ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক তৌহিদ বিন-হাসান, পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। শালদাহ এলাকায় মন্ত্রী ও কর্মকর্তারা ব্যারেজ নির্মাণের সম্ভাব্য স্থান এবং আশপাশের ভৌগোলিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন। সংশ্লিষ্টদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়নে নদীর প্রবাহ, পানি ধারণক্ষমতা, পরিবেশ, নদীভাঙন, কৃষি, বসতি ও যোগাযোগব্যবস্থাসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনা করা প্রয়োজন।
পদ্মা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে শুষ্ক মৌসুমে পানি সংরক্ষণ ও পরিকল্পিত ব্যবহারের মাধ্যমে সেচের পানির প্রাপ্যতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন সম্প্রসারণের পাশাপাশি মৎস্যসম্পদ ও নদীভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। বিশেষ করে কুষ্টিয়াসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের পানি পরিকল্পিতভাবে ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হলে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমতে পারে। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি, পদ্মার পানি ব্যবহারের পাশাপাশি নদীভাঙন রোধে টেকসই উদ্যোগ নেওয়া হোক। তবে প্রকল্পের চূড়ান্ত স্থান, নকশা, ব্যয় ও বাস্তবায়ন সময়সীমা নির্ধারণের আগে পূর্ণাঙ্গ সম্ভাব্যতা সমীক্ষা, হাইড্রোলজিক্যাল ও পরিবেশগত মূল্যায়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা প্রয়োজন। মন্ত্রীর সরেজমিন পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প নিয়ে দীর্ঘদিনের আলোচনা নতুন করে সামনে এসেছে।