সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূলে কার্যকর পদক্ষেপ, গ্যাস-বিদ্যুৎ ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বন্ধ এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে শরীয়তপুরে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে শরীয়তপুর পৌরসভা মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “বর্তমানে যে-ই ক্ষমতার মসনদে যায়, সে-ই হাসিনা হয়ে উঠতে চায়।” তিনি বলেন, সংবিধান সংস্কার ও সংশোধনের পার্থক্য না বুঝে জনগণ বিভ্রান্তির মধ্যে রয়েছে। তার দাবি, সংবিধান সংস্কার হলো গভীর ও মৌলিক পরিবর্তন, আর সংশোধন এমন বিষয় যা প্রয়োজনে বারবার পরিবর্তন করা যায়।
নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার তাগিদ দিয়ে মামুনুল হক বলেন, সরকার জনগণের গণভোটের রায় সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করলে নাগরিক আন্দোলনের প্রয়োজন হতো না। ক্ষমতায় আসার আগে গণভোটের কথা বলা হলেও পরবর্তীতে শপথ নেওয়ার পর জনগণের সঙ্গে ওয়াদা বরখেলাপ ও ধোঁকাবাজি শুরু হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। সংবিধান প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, দেশে এ পর্যন্ত ১৩টি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠিত হলেও সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে ১৭ বার। সমাবেশে বক্তব্য দেন মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ্দ উদ্দিন আহমদ হানজালা। তিনি ফরায়েজী আন্দোলনের নেতা হাজী শরীয়তুল্লাহর ঐতিহাসিক অবদান তুলে ধরে নিজেকে তার বংশধর হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অন্যায় ও শোষণের বিরুদ্ধে আপসহীনভাবে সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে ময়মনসিংহ-২ (ফুলপুর) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা মুফতী মুহাম্মদুল্লাহও বক্তব্য দেন। তিনি স্থানীয় বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা এবং জনগণের সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা শাব্বির আহমদ ওসমানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ থেকে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধ এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।