September 10, 2026, 6:27 pm

মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়ে কারাগারে চিন্ময়

অভয়নগর প্রতিবেদক

পাঁচ ঘণ্টার জন্য কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর আবার চট্টগ্রাম কারাগারে ফিরেছেন সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারী। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে তাকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে পৌঁছায়। সেখানে সন্ধ্যা রানী ধরের শেষকৃত্য শুরু হলে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন চিন্ময়। পরে প্রিজন ভ্যানে করে তাকে আবার কারাগারে নেওয়া হয়। জেলা পুলিশের অতিরিক্ত সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী তারেক আজিজ জানান, বিকেল পৌনে ৫টার দিকে চিন্ময়কে পুণ্ডরীক ধামে আনা হয় এবং মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার পর সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে তাকে নিয়ে প্রিজন ভ্যান শহরের দিকে রওনা হয়।

এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে পরিবারের করা পারোলের আবেদন অনুমোদন করেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার জন্য চিন্ময়কে পাঁচ ঘণ্টার জন্য মুক্তি দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে হাটহাজারীর মেখল ইউনিয়নের পুণ্ডরীক ধামে তার মা সন্ধ্যা রানী ধর মারা যান। প্রয়াতের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী সেখানেই তার শেষকৃত্যের আয়োজন করা হয়। মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিতে বিকেল ৪টার দিকে চিন্ময়কে নিয়ে প্রিজন ভ্যান হাটহাজারীর উদ্দেশে রওনা হয়। এ সময় পুণ্ডরীক ধামে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন ছিল। বিকেলে বৃষ্টির মধ্যেই চিন্ময়কে নিয়ে প্রিজন ভ্যান সেখানে পৌঁছালে ভক্ত-অনুরাগীরা মন্দিরে জড়ো হন। পুলিশ প্রহরায় তাকে মন্দিরের ভেতরে নেওয়া হয়।

মায়ের মরদেহ দেখে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। স্বজন, মন্দিরের সন্ন্যাসী ও প্রতিবেশীরা তাকে সান্ত্বনা দেন। তিনি ধামের বিভিন্ন মন্দিরে গিয়ে প্রণাম করেন এবং পরে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নেন। মৃত্যুশয্যায় থাকা মা যাতে শেষবার ছেলেকে দেখতে পারেন, সে জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে বুধবার জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে পারোলের আবেদন করার কথা জানানো হয়েছিল। এর আগে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সৈয়দ মাহবুবুল হক জানিয়েছিলেন, অসুস্থ স্বজনকে দেখতে পারোলে মুক্তির আইনগত সুযোগ নেই; স্বজন মারা গেলে এ ধরনের সুযোগ রয়েছে। মায়ের মৃত্যুর পর পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চিন্ময়কে শেষকৃত্যে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়।



ফেসবুক কর্নার