
ঢাকাই চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর জন্মদিন আজ ১৯ সেপ্টেম্বর। সময়ের হিসাবে তিনি আমাদের মাঝে নেই প্রায় তিন দশক। তবে তার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি; বরং নতুন প্রজন্মের দর্শকের কাছেও সালমান শাহ এখনো একটি নাম, একটি স্টাইল ও আবেগের প্রতীক। ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটে জন্মগ্রহণ করেন শাহরিয়ার চৌধুরী ইমন, যিনি পরবর্তীতে চলচ্চিত্রপ্রেমীদের কাছে সালমান শাহ নামে পরিচিত হন। ১৯৯৩ সালে ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় তার। মৌসুমীর বিপরীতে অভিনীত ছবিটি তাকে দ্রুত দর্শকের পরিচিত মুখে পরিণত করে।
নব্বইয়ের দশকের শুরুতে প্রচলিত নায়ক চরিত্রের বাইরে সালমান শাহ নিজের অভিনয়, পোশাক, চুলের স্টাইল, কথা বলার ধরন ও পর্দার উপস্থিতিতে আলাদা পরিচয় তৈরি করেন। প্রেমিক, সাধারণ তরুণ, আবেগপ্রবণ যুবক কিংবা পারিবারিক টানাপোড়েনে থাকা মানুষের চরিত্রে অভিনয় করে বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন তিনি। ‘স্বপ্নের ঠিকানা’, ‘স্বপ্নের পৃথিবী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘চাওয়া থেকে পাওয়া’ ও ‘সত্যের মৃত্যু নেই’সহ বিভিন্ন চলচ্চিত্রে তার অভিনয়ের ছাপ রয়েছে। অতিরঞ্জিত নায়কোচিত ভঙ্গির বদলে স্বাভাবিক অভিনয় ও সাবলীল উপস্থিতির মাধ্যমে দর্শকের সঙ্গে সহজেই সংযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি। তার অভিনীত চলচ্চিত্রের গানও দর্শকের কাছে আলাদা জনপ্রিয়তা পায়।
সালমান শাহর চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত। ১৯৯৩ সালে শুরু হওয়া সেই পথচলা ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তার আকস্মিক মৃত্যুর মধ্য দিয়ে থেমে যায়। মাত্র ২৫ বছর বয়সে মৃত্যুবরণ করলেও অল্প সময়ে তিনি প্রায় তিন ডজন চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। শাবনূর, মৌসুমী, শাবানা, ববিতাসহ বিভিন্ন অভিনেত্রীর সঙ্গে তার জুটি দর্শকের কাছে জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। বিশেষ করে শাবনূরের সঙ্গে তার জুটি নব্বইয়ের দশকের চলচ্চিত্রে বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সময়ের সঙ্গে চলচ্চিত্রের প্রযুক্তি ও দর্শকের রুচিতে পরিবর্তন এলেও সালমান শাহকে ঘিরে দর্শকের আবেগ অটুট রয়েছে। তার অভিনয়, হাসি, তারুণ্য ও পর্দার উপস্থিতি এখনো নতুন-পুরোনো প্রজন্মের দর্শকের স্মৃতিতে জীবন্ত।