নাটোরের বড়াইগ্রামে পুত্রবধূকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে বাধা দেওয়ায় স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে নুরুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। পরে তিনি বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। আহত স্ত্রী রওশন আরাকে (৪২) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার জলন্দা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বড়াইগ্রাম থানা সূত্রে জানা গেছে, নুরুল ইসলামের ছেলে রাসেল আহমেদ প্রথম স্ত্রীর অনুমতি না নিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী অভিযোগ করলে রাসেলের চাকরি চলে যায়। বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ ছিলেন নুরুল ইসলাম। এরই জেরে শুক্রবার সকালে ছেলের প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে তার বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তিনি ধারালো অস্ত্র দিয়ে পুত্রবধূকে কোপাতে গেলে স্ত্রী রওশন আরা বাধা দেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্ত্রী বাধা দেওয়ায় নুরুল ইসলাম ক্ষিপ্ত হয়ে রওশন আরাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে বড়াইগ্রাম থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেন। এদিকে প্রতিবেশীরা আহত রওশন আরাকে উদ্ধার করে প্রথমে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রওশন আরার ভাই জরিফ উদ্দিন অভিযোগ করে বলেন, পারিবারিক বিরোধের জেরে তার বোনকে পরিকল্পিতভাবে কুপিয়ে আহত করা হয়েছে। তিনি বলেন, নুরুল ইসলাম প্রথমে তার পুত্রবধূকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। এ সময় রওশন আরা বাধা দিলে তাকে কুপিয়ে আহত করা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর কাটা জখম হয়েছে বলেও জানান জরিফ উদ্দিন।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা আহত রওশন আরার চিকিৎসার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আহত নারীর ভাই জরিফ উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছেন। মামলায় নুরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে এবং মামলার পরবর্তী কার্যক্রম আইন অনুযায়ী পরিচালিত হবে। পারিবারিক বিরোধের জেরে সংঘটিত এ ঘটনায় পুত্রবধূকে আঘাতের চেষ্টা এবং স্ত্রীকে কুপিয়ে আহত করার অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।