
বৈঠার ছন্দে মুখর বিল, উৎসবে মেতেছে শতশত মানুষ
অভয়নগরে চাঁদের বিলে সুকুমার সরকারের ঘেরে জমজমাট ডোঙ্গা নৌকাবাইচ
অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের অভয়নগরে গ্রামবাংলার হারিয়ে যেতে বসা ঐতিহ্যবাহী ডোঙ্গা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠার ছন্দ, মাঝিদের হুংকার আর দর্শকদের উচ্ছাসে মুখর হয়ে ওঠে সিদ্ধিপাশার চাঁদের বিলের সুকুমার সরকারের ঘের। নৌকাবাইচ দেখতে জড়ো হন শতশত মানুষ। নারী পুরুষ ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয় উৎসবের মিলনমেলা।
গতকাল শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে অভয়নগর উপজেলার সিদ্ধিপাশা ইউনিয়নের ধূলগ্রামের চাঁদের বিলে পল্লী ওয়েলফেরার অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে,বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন এর অর্থায়নে এ ডোঙ্গা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক পরিচালক ডাঃ এ.টি.এম মঞ্জুর মোর্শেদ এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ৮নং সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন আমতলা পুলিশ ক্যাম্প ইনচার্জ মোঃ জাহিদ হোসেন।
ডোঙ্গা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৭ টি ডোঙ্গা নৌকা অংশ নেয়। নৌকা নিয়ে প্রতিযোগিরা হাজির হন চাঁদের বিলে সুকুমার সরকারের ঘেরে। মাঝিদের ছন্দময় বৈঠার টানে এগিয়ে চলে ডোঙ্গা নৌকা। একে অপরকে পেছনে ফেলে কাঙ্খিত জয় ছিনিয়ে নিতে মাঝিদের প্রাণপণ চেষ্টা আর দর্শকদের করতালি উচ্ছ্বাসে সৃষ্টি হয় দারুণ এক আবহ।
ডোঙ্গা নৌকা নিয়ে আনন্দ ও উল্লাসের মধ্যেই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মাঝিরা। এমন আয়োজনে অংশ হতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন তারা। ঐতিহ্যবাহী ডোঙ্গা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন মোঃঈমান আকুঞ্জি, ২য় স্থান অধিকার করেন দীপঙ্কও সরকার।
পল্লী ওয়েলফেরার অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী পরিচালক এস এম নজরুল ইসলাম বলেন, গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে ডোঙ্গা নৌকাবাইচের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। আধুনিকতার প্রভাবে হারিয়ে যেতে বসা এই ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এ আয়োজন করা হয়েছে।
০৮ নং সিদ্ধিপাশা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আবুল কাশেম বলেন, ডোঙ্গা নৌকাবাইচ শুধু বিনোদন নয়, এটি গ্রামীণ জনপদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির অংশ। এধরনে আয়োজন মানুষের মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি পারষ্পরিক সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্য বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখে।
একসময় গ্রামবাংলার নদী ,খাল ও বিলে নিয়মিত আয়োজিত হত ডোঙ্গা নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। সময়ের বির্বতনে আধুনিক বিনোদনের ভিড়ে সেই ঐতিহ্য বর্তমানে অনেকটায় হারিয়ে যেতে বসেছে। তবে সচেতন মহলের দাবি, এ ধরণের আয়োজন অব্যাহত থাকলে নতুন প্রজন্মের সঙ্গে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যে আর সুদৃঢ় হবে এবং মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন দৃঢ় হবে।