October 5, 2026, 7:24 pm

পাকিস্তানের আকাশসীমার অনুমতি না মেলায় রূপপুরের ইউরেনিয়াম আসেনি

অভয়নগর প্রতিবেদক

 

পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্বিতীয় ইউনিটের জন্য ইউরেনিয়াম জ্বালানি নির্ধারিত সময়ে বাংলাদেশে আনা সম্ভব হয়নি। জ্বালানিবাহী কার্গো বিমানটি ২৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা আসেনি। বাংলাদেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআইকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বিমানটি পাকিস্তানের আকাশসীমা ব্যবহারের অনুমতি না পাওয়ায় নির্ধারিত সময়ে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি। তবে পাকিস্তান কেন অনুমতি দেয়নি, তা এখনো বাংলাদেশ জানতে পারেনি।

মন্ত্রী জানান, ইউরেনিয়াম পরিবহনের নতুন সময়সূচি নিয়ে কাজ চলছে। রাশিয়া জানিয়েছে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে জ্বালানিটি বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শেখ মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম এএনআইকে বলেন, বিমানটি আসার কথা থাকায় বিমানবন্দরে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করে কর্মকর্তারা অপেক্ষায় ছিলেন। পরে রূপপুর প্রকল্পে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের লিয়াজোঁ কর্মকর্তা জানান, বিমানটির চলাচলের জন্য আকাশসীমা নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। এ কারণে নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী বিমানটি পাঠানো হয়নি। তবে কোন দেশ বা কর্তৃপক্ষ আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দিয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র রূপপুর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার পাকশী ইউনিয়নের রূপপুর গ্রামে পদ্মা নদীর তীরে নির্মাণ করা হচ্ছে। রোসাটমের কারিগরি সহায়তায় বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এখানে তৃতীয় প্রজন্মের ভিভিইআর-১২০০ প্রযুক্তির দুটি চুল্লি নির্মাণ করা হচ্ছে, যেগুলো থেকে মোট ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা রয়েছে। প্রথম ইউনিটের জন্য কম সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের প্রথম চালান ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে আসে। রাশিয়া থেকে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থায় বিমানযোগে ঢাকায় আনার পর তা বিশেষ কনটেইনারে ঈশ্বরদীতে নেওয়া হয়েছিল।



ফেসবুক কর্নার