
কুষ্টিয়া সদর উপজেলার ৪ নম্বর বটতৈল ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত এক নারী গ্রাম পুলিশকে বারবার অনৈতিক প্রস্তাব ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে একই ইউনিয়নের আরেক গ্রাম পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মোছা. পারভীন বেগম কুষ্টিয়া মডেল থানায় সাধারণ অভিযোগ করেছেন। অভিযুক্ত গ্রাম পুলিশের নাম মো. দিদারুল ইসলাম। পারভীনের অভিযোগ, কর্মস্থলে বিভিন্ন সময়ে তাঁকে অনৈতিক প্রস্তাব দেওয়া হতো, বিশেষ করে তিনি একা থাকলে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হতো। পাশাপাশি তাঁকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছেন তিনি।
পারভীন বেগমের ভাষ্য, বিষয়টি আগে ইউনিয়ন পরিষদের তৎকালীন সচিবকে জানানো হলে দুজনকে ডেকে সতর্ক করা হয়েছিল। কিছুদিন পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও পরে আবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয় বলে তাঁর দাবি। এ বিষয়ে অভিযুক্ত দিদারুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ বানোয়াট ও ভিত্তিহীন। তাঁর সঙ্গে আমার কোনো ঝামেলা নেই। তাঁকে আমি চাচি বলে ডাকি, আর তিনি আমাকে আব্বা বলে ডাকেন।” ইউনিয়ন পরিষদের সচিব জানান, পারভীন আগে বিষয়টি তাঁকে জানিয়েছিলেন। দুজনের সম্মানের কথা বিবেচনা করে তাঁদের ডেকে সংশোধন হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। পরে আবারও সমস্যা শুরু হয়েছে বলে তিনি জানতে পারেন।
এদিকে, ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সচিব অসুস্থ থাকাকালে কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে। এ ঘটনায় দিদারুল ইসলামের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ থাকলেও তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। সচিবের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র হারিয়ে যাওয়ার পর তিনি সেগুলো খুঁজছিলেন এবং দিদারুল তাঁকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা দিদারুলের সম্পদ ও আয়ের উৎস তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, সংশ্লিষ্ট সব অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগকারী নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক।