October 25, 2026, 6:15 am
শিরোনাম :
সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর নিভৃত দাফন: মধ্যরাতে মোবাইলের আলোয় কবর খুঁড়লেন স্বজনরা বিক্ষোভ মোকাবিলায় দেশজুড়ে ৭০ হাজার পুলিশ মোতায়েন করল ফ্রান্স তত্ত্বাবধায়ক সরকার গঠনে ভাইস প্রেসিডেন্ট পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পুত্রসন্তানের বাবা-মা হলেন মাওরা হোসাইন ও আমির গিলানি মুক্তির আগেই অগ্রিম বুকিংয়ে সাড়া ফেলেছে রণবীরের ‘রামায়ণ’ সকাল থেকে ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারছেন না ফারুকী বাংলায় কারচুপি করে বিজেপি জিতেছে: নাসিরুদ্দিন শাহ সৌদি বিমানবন্দরে আগুন নেভাতে গিয়ে কর্মীর মৃত্যু রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন শাহজালালের দানবাক্সে তারেক রহমানকে লেখা চিঠি

সাঈদীর মামলার বাদী মানিক পশারীর নিভৃত দাফন: মধ্যরাতে মোবাইলের আলোয় কবর খুঁড়লেন স্বজনরা

ফয়সাল আহাম্মেদ, পিরোজপুর জেলা ক্রাইম রিপোর্টার

​পিরোজপুর: যুদ্ধাপরাধ মামলার অন্যতম বাদী ও আলোচিত সাক্ষী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর তার দাফন সম্পন্ন নিয়ে এলাকায় এক নজিরবিহীন ও চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় অধিবাসীদের অনীহা ও বয়কটের মুখে শেষ পর্যন্ত কোনো গোরখোদক বা প্রতিবেশী এগিয়ে না আসায় মধ্যরাতে মোবাইলের আলো জ্বালিয়ে স্বহস্তে কবর খুঁড়তে বাধ্য হয়েছেন তার মেয়ে ও দুই বোন।
​স্থানীয় সূত্র ও সরেজমিনে জানা গেছে, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমীর মরহুম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে অন্যতম সাক্ষী ও বাদী ছিলেন পিরোজপুরের মানিক পশারী। সম্প্রতি তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকার সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
​এলাকাবাসীর অভিযোগ, সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ও মিথ্যা সাক্ষ্য দিয়ে একজন প্রখ্যাত আলেমকে দীর্ঘদিন কারারুদ্ধ করে রাখা এবং তার জীবন ধ্বংস করার নেপথ্যে ভূমিকা রেখেছিলেন মানিক পশারী। এর ফলে তার মৃত্যুর পর চরম জানাজা ও দাফন বয়কটের সিদ্ধান্ত নেন স্থানীয়রা। জানাজায় অংশগ্রহণ করা দূরে থাক, তার লাশ বহনে কিংবা কবর খোঁড়ার কাজেও গ্রামের কোনো মানুষ এগিয়ে আসেননি।
​পরিস্থিতি জটিল রূপ নিলে শেষ পর্যন্ত নিভৃত রাতে পরিবারের সদস্য ও স্বজনরাই দাফনের প্রস্তুতি গ্রহণ করেন। মাঝরাতে ঘুটঘুটে অন্ধকারের মধ্যে মোবাইলের টর্চের আলো জ্বালিয়ে মানিক পশারীর মেয়ে ও দুই বোন নিজেরা কোদাল হাতে নিয়ে কবর খোঁড়ার কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে অত্যন্ত সীমিত পরিসরে স্বজনদের উপস্থিতিতে তার দাফন সম্পন্ন হয়।
​নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি জানান, “একজন আলেমের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী দেওয়ার যে মাশুল ও জনরোষ, তা আমরা আজ স্বচক্ষে দেখলাম। ক্ষোভের মাত্রা এতটাই বেশি ছিল যে গ্রামের কেউ তার শেষযাত্রায় অংশ নিতে মন থেকে সায় দেয়নি।”
​ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের বিচার প্রক্রিয়া ও স্থানীয় সামাজিক মনস্তত্ত্বের এই নজির জেলার সার্বিক সুধী সমাজে এক নতুন বিষয়ের অবতারণা করেছে।



ফেসবুক কর্নার