
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত ১১টার দিকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকায় স্বামীর বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তাঁর স্বামী ও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ।
রোববার (২৫ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়। এদিকে, ফারজানার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন তাঁর স্বামী। গত বছরের ডিসেম্বরে নির্যাতনের শিকার হয়ে তিনি বাবার বাড়িতে চলে যান এবং এ ঘটনায় নারী নির্যাতনের মামলা করেন।
ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, প্রায় তিন বছর আগে একই বিভাগের জ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী নাজমুলের সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। তাঁর অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ফারজানার পরিবারের কাছ থেকে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পর অর্থের চাহিদা বাড়ে এবং ফারজানার ওপর নির্যাতনও চলতে থাকে বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের আরও অভিযোগ, নির্যাতন না করার আশ্বাসে দুই পরিবারের সমঝোতার পর মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ফারজানাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।