October 25, 2026, 12:02 pm
শিরোনাম :
জাইমার জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে সাইকেল, চক্ষুসেবা পেলেন ৪ হাজার মানুষ ব্যালন ডি’অরের লড়াইয়ে এগিয়ে কেইন, চাপে ইয়ামাল ফ্রান্সে জীবনযাত্রার ব্যয়বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভ, আটক প্রায় ১ হাজার চিন্ময়ানন্দের এআই অবতারের কাছে আশীর্বাদ চাইলেন নরেন্দ্র মোদি ইতালিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, আটক ৩৭১ জনের মধ্যে ১১০ অপ্রাপ্তবয়স্ক গ্যাস সংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানার উৎপাদন খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর তৃতীয় এলসিটি-১০৪ লঞ্চিং মকসুদ আহমদকে ঘিরে ভাইরাল ভিডিও, এআই অপপ্রচারের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পরিচয়ে প্রতারণা,গ্রেপ্তার ছাত্রলীগ নেতা জাতীয় নারীশক্তির আংশিক আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা, নেতৃত্বে মিতু

খুলনা শিপইয়ার্ডে নৌবাহিনীর তৃতীয় এলসিটি-১০৪ লঞ্চিং

হুমায়ুন কবির সাকিব, চীফ ক্রাইম রিপোর্টার

 

দেশীয় সক্ষমতায় যুদ্ধজাহাজ নির্মাণের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ নৌবাহিনীর জন্য নির্মিত তৃতীয় ল্যান্ডিং ক্রাফট ট্যাংক (এলসিটি) লঞ্চিং করা হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেডে নির্মিত এলসিটি-১০৪-এর আনুষ্ঠানিক লঞ্চিং অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাহাজটি লঞ্চ করেন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সহকারী নৌবাহিনী প্রধান (ম্যাটেরিয়েল) রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। এ সময় সামরিক ও বেসামরিক বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। কানাডার ভার্ড মেরিনের নকশায় খুলনা শিপইয়ার্ডের নিজস্ব সক্ষমতায় নির্মিত জাহাজটির দৈর্ঘ্য ৭৪ দশমিক ৫ মিটার, প্রস্থ ১৩ মিটার এবং ডিসপ্লেসমেন্ট ১ হাজার ৫০৫ মেট্রিক টন। সরবরাহ করা তথ্যমতে, জাহাজটি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৭ মাইল গতিতে চলতে সক্ষম।

এলসিটি-১০৪ সামরিক সরঞ্জাম ও ভারী যানবাহন পরিবহন, উপকূলীয় ও দ্বীপাঞ্চলে রসদ পৌঁছে দেওয়া এবং উভচর অভিযান পরিচালনায় ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, মানবিক সহায়তা, উদ্ধার অভিযান, প্রশিক্ষণ ও দুর্গম এলাকায় প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পরিবহনের ক্ষেত্রেও জাহাজটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধানে খুলনা শিপইয়ার্ডে নির্মিত তিনটি এলসিটির মধ্যে প্রথম এলসিটি-১০২ গত ৪ ডিসেম্বর ২০২৫ এবং দ্বিতীয় এলসিটি-১০১ গত ১৫ জানুয়ারি ২০২৬ লঞ্চিং করা হয়। এর ধারাবাহিকতায় তৃতীয় জাহাজ এলসিটি-১০৪-এর লঞ্চিংকে প্রকল্পের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। জাহাজগুলোতে ক্যাটারপিলার ইঞ্জিনসহ বিভিন্ন বিদেশি প্রতিষ্ঠানের তৈরি যন্ত্রপাতি, জেনারেটর ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

খুলনা শিপইয়ার্ড লিমিটেড জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতের পাশাপাশি বিভিন্ন জাতীয় উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত ৮০০টির বেশি জাহাজ ও জলযান নির্মাণ এবং ২ হাজার ৫০০টির বেশি জাহাজ ও জলযান মেরামত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। আইএসও সনদপ্রাপ্ত এ শিপইয়ার্ড জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ট্যাক্স কার্ড সম্মাননা ও গ্রিন ফ্যাক্টরি অ্যাওয়ার্ডও অর্জন করেছে বলে জানানো হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশে এ ধরনের জাহাজ নির্মাণের মাধ্যমে দেশীয় প্রকৌশল দক্ষতা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিকাশের সুযোগ বাড়বে এবং বিদেশ থেকে জাহাজ সংগ্রহের ওপর নির্ভরতা কমাতে সহায়তা করবে। প্রতিরক্ষা শিল্পের পাশাপাশি মেরিটাইম খাত ও সামগ্রিক অর্থনীতিতেও এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।



ফেসবুক কর্নার