
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলা খাদ্যগুদামে সরকারি খাদ্যশস্যের মজুত ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে অভিযান পরিচালনা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত পরিচালিত এ অভিযানে বিভিন্ন নথিপত্র যাচাই করে বেশ কিছু অসংগতি পেয়েছেন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে মৃত চেয়ারম্যানের নামে সরকারি চাল বরাদ্দ ও উত্তোলনের নথি পাওয়া যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, গত ১৮ অক্টোবর ফিলিপনগর ইউনিয়নের ১০৭ জন ভিজিডি কার্ডধারীর জন্য ৩০ কেজি করে মোট ৩ হাজার ২১০ কেজি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। চাল উত্তোলনসংক্রান্ত নথিতে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর না থাকায় সংশ্লিষ্ট প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হককে তলব করা হয়। এ সময় নথিতে চেয়ারম্যান হিসেবে ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সন্ত্রাসীদের গুলিতে নিহত নঈম উদ্দিন সেন্টুর নাম দেখতে পান তিনি। সেন্টুর মৃত্যুর পর থেকে প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন একরামুল হক। মৃত চেয়ারম্যানের নাম কীভাবে সরকারি খাদ্যশস্য উত্তোলনের নথিতে বহাল রয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্যানেল চেয়ারম্যান একরামুল হক অভিযোগ করেন, সরকারি ভিজিএফের চাল বরাদ্দের ক্ষেত্রেও খাদ্যগুদামের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা তাঁদের কম চাল দিতেন। তবে মৃত চেয়ারম্যানের নাম নথিতে কীভাবে রয়ে গেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। বুধবার দুপুর সোয়া ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক বুলবুল আহমেদের নেতৃত্বে অভিযান চলে। তিনি জানান, নথিপত্র যাচাইয়ে বেশ কিছু অসংগতি পাওয়া গেছে এবং তদন্ত অব্যাহত থাকবে। এদিকে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সেলিম রেজাকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করা হয়। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা আল ওয়াজিউর রহমান জানান, তদন্তের মাধ্যমে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেলিম রেজার বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।