
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াত ক্ষমতায় গেলে সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালনের জন্য দেশকে নিরাপদ করা হবে। তিনি বলেন, প্রত্যেকে নিজ নিজ উপাসনালয়ে স্বাধীনভাবে উপাসনা করবে। এ ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার অধিকার কারও নেই।
শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) লক্ষ্মীপুরে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তরুণ প্রজন্মকে অস্বীকার করার প্রবণতা অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি বলেন, যাদের ত্যাগের কারণে আজ দেশে নির্বাচন ও রাষ্ট্র পরিচালনার স্বপ্ন দেখা সম্ভব হচ্ছে, তাদেরই কেউ কেউ বাচ্চা-কাচ্চা বা নাতি-পুতি বলে অবমূল্যায়ন করছেন। বিষয়টি তিনি বিস্ময়কর ও দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী গত ৫৪ বছরে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত দেখেছে। এই বন্দোবস্ত থেকেই ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ হয়েছে, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। জনগণের টাকায় কেনা অস্ত্র দিয়ে জনগণের ওপর গুলি চালানো হয়েছে। তিনি এ ধরনের রাজনীতি আর ফিরিয়ে না আনার আহ্বান জানান।
পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের আস্থা পেলে জামায়াত সেই আস্থার প্রতিদান দেবে। আমরা প্রতিহিংসা বা প্রতিশোধের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। দুর্নীতি, মামলাবাজি ও চাঁদাবাজির রাজনীতি বন্ধ করা হবে। মামলা দিয়ে হয়রানির সংস্কৃতি আর চলবে না। জামায়াত অতীতের দিকে নয়, সামনে তাকিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে সম্মানের সঙ্গে দেশ গড়তে চায়।
নারীদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মায়েদের গায়ে হাত তোলা এ জাতি কখনো মেনে নেয়নি। তরুণ সমাজ লাঠিয়াল বাহিনীকে ব্যর্থ করে দিয়েছে। মা-বোনেরা নিরাপত্তা ও মর্যাদার জন্য পরিবর্তন চায়। জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে এবং যোগ্যতা অনুযায়ী কর্মক্ষেত্রে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, অমুসলিম নাগরিকদেরও সম্মানের সঙ্গে বুকে টেনে নেওয়া হবে। কাউকে বাদ দেওয়া হবে না। সকল ধর্মের মানুষের ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিরাপদভাবে পালনের নিশ্চয়তা দেওয়া হবে। অতীতে যাদের ওপর নির্যাতন হয়েছে, তাদের বিচার নিশ্চিত করা হবে এবং অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা হবে।
লক্ষ্মীপুরের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মেঘনা নদীর বাঁধ নির্মাণে বরাদ্দকৃত অর্থ উন্নয়নের কাজে না লেগে দুর্নীতির শিকার হয়েছে। জামায়াত দায়িত্ব পেলে চুরির পথ বন্ধ করে সেই অর্থ জনগণের উন্নয়নে ব্যয় করা হবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।