March 6, 2026, 2:46 am
শিরোনাম :

চট্টগ্রামে ভণ্ড ‘জিনের বাদশা’ কামাল শাহের প্রতারণার ফাঁদে লাখো টাকা লুট—অভিযুক্তের বিরুদ্ধে তদন্ত দাবি

Reporter Name

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের ইপিজেড এলাকায় ভুয়া জিনের বাদশা পরিচয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণার ব্যবসা চালিয়ে আসছেন হাফেজ মাওলানা কামাল শাহ—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অসংখ্য ভুক্তভোগীর কাছ থেকে। সাধারণ মানুষের পারিবারিক সমস্যা, দাম্পত্য সংকট, রোগব্যাধি ও ভবিষ্যৎ জানার লোভ দেখিয়ে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ইপিজেড থানার ৩৯ নং ওয়ার্ডের ব্যাংক কলোনি এলাকায় ‘জিনের বাদশা চেম্বার’ নামে নিচতলায় একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে তিনি বহুদিন ধরে প্রতারণার এই অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আশেপাশের বাসিন্দা ও মায়মুনা ম্যানশনের ব্যবস্থাপনা সূত্র জানায়—
“কামাল শাহ একজন পেশাদার প্রতারক। গার্মেন্টস শ্রমিক থেকে শুরু করে নিম্ন আয়ের মানুষদের পারিবারিক সমস্যার সমাধানের নাম করে টাকা আদায় করে।”
ছদ্মবেশে সাংবাদিকদের কাছে ধরা পড়ল প্রতারণার কৌশল
তথ্য যাচাইয়ের জন্য ছদ্মবেশে যখন গণমাধ্যমকর্মীরা চেম্বারে যান, তখন নিজেকে ‘জিনের বাদশা’ দাবি করা কামাল শাহ সরাসরি বলেন—
স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে চাইলে ৫০ হাজার টাকা লাগবে, আগে দিতে হবে ২৫ হাজার। বাকিটা কাজ শেষে।
কথোপকথনের সময় তিনি আরও চমকপ্রদ দাবি করেন—
“পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ডিসি, ওসি—সবাই জানে আমি কী করি। কেউ আমাকে থামাতে পারবে না।”
যখন সাংবাদিকরা তার ‘হাজিরা খাতা’ দেখতে চান, তখন তিনি দম্ভোক্তি করে বলেন—
“এটা আমার ব্যক্তিগত বিষয়, দেখাতে পারব না।”
দীর্ঘদিনের প্রতারণার ইতিহাস
তদন্তে জানা যায়, প্রায় দশ বছর ধরে তিনি এই প্রতারণা ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। আগে আকমাল আলী রোডের লন্ডন বিল্ডিং এলাকায় প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বসবাস করতেন। পরে তাকে তালাক দিয়ে ব্যাংক কলোনিতে আরেকটি বিয়ে করে নতুনভাবে প্রতারণার আসর বসান।
প্রতারণার ধরন একই—জিন দিয়ে সমস্যা সমাধান, জাদু থেকে মুক্তি, দাম্পত্য মিলন, ভাগ্য গণনা, ইত্যাদি অজুহাতে টাকা আদায়।
প্রশাসনের কী অবস্থান?
ইপিজেড থানার অফিসার ইনচার্জ কামরুজ্জামান বলেন—
“বিষয়টি আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ—কামাল শাহ এতদিন ধরে অবৈধ কার্যক্রম চালাতে পেরেছে প্রশাসনের ঢিলেঢালাভাব ও গোপন রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয়ের কারণে।
ভুক্তভোগীদের দাবি
অনেক পরিবার ভিটেমাটি বিক্রি করে তার প্রতারণার ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। তারা বলেন—
“সে নিজেকে জিনের বাদশা বলে ভয় দেখায়, অভিশাপের ভয় দেখায়, আর টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যায়।”
অনুসন্ধান চলমান….



ফেসবুক কর্নার