
চুয়াডাঙ্গার কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সারগুদামে শ্রমিকদের মধ্যে কয়েক দিনের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কাটিয়ে আবারও স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বর্তমানে গুদামে সার উত্তোলন ও বিতরণ আগের মতো সচল রয়েছে। তবে শ্রমিক সর্দার মঞ্জুর ওরফে ডাসার বিরুদ্ধে হুমকি-ধামকির অভিযোগ থেকে শ্রমিকদের মধ্যে এখনও শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।
চুয়াডাঙ্গা বিএডিসি সারগুদাম থেকে দুই শতাধিক ডিলার সার সংগ্রহ করে জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে সরবরাহ করেন। গুদামের কার্যক্রম বন্ধ হলে ডিলাররা সার উত্তোলনে ভোগান্তিতে পড়েন।
জানা গেছে, ১৫ ফেব্রুয়ারি গুদামে কর্মরত ৩৬ জন শ্রমিক মঞ্জুর ওরফে ডাসার বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেন। অভিযোগ ছিল, মঞ্জুর অতিরিক্ত মাসোয়ারা আদায় ও নিকটাত্মীয়দের কাগজে-কলমে শ্রমিক দেখিয়ে লেবার বিল উত্তোলন করান। বিক্ষোভের কারণে গুদামের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করছেন এবং দৈনিক হাজিরার টাকা সমানভাবে ভাগাভাগি করছেন। আগে যে কমিশন প্রভাবশালী পক্ষ পেত, তা আর পাওয়া যায় না। তবে সম্প্রতি মঞ্জুর ওরফে ডাসা বিভিন্নভাবে হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন, যা নিয়ে শ্রমিকরা প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছেন।
শ্রমিক রাসেল বলেন, “মঞ্জুর অতিরিক্ত টাকা নিতেন, এখন আমরা তা দিচ্ছি না। নিজেরাই কাজ শেষে টাকা ভাগাভাগি করছি। স্বাধীনভাবে সারগুদামের কার্যক্রম চালাচ্ছি।” আরেক শ্রমিক মামুন হোসেন বলেন, “দৈনিক হাজিরা টাকার কমিশন এখন আর কোনো প্রভাবশালী পক্ষ পাচ্ছে না। তবে মঞ্জুরের হুমকি-ধামকি এখনও আছে।”
বিএডিসি চুয়াডাঙ্গার উপসহকারী পরিচালক (সার) শংকর দাশ বলেন, “যথানিয়মেই সার বিতরণ কার্যক্রম চলছে। শ্রমিকদের সমস্যা অনেকটা কেটেছে এবং স্বাভাবিকভাবে সার প্রদান শুরু হয়েছে।”