
জন্মের সময় নবজাতকের সঠিক যত্ন নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুকে স্পর্শ করার আগে সেবাদানকারীকে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে ৪০–৬০ সেকেন্ড ধরে কব্জি পর্যন্ত হাত ভালোভাবে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর নিম্নলিখিত ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে—
১. শিশুকে মুছে শুষ্ক করা:
জন্মের পরপরই পরিষ্কার শুকনো কাপড় দিয়ে শিশুর মাথা, পিঠ, হাত, পা ও পুরো শরীর ভালোভাবে মুছে শুষ্ক করতে হবে। ভেজা কাপড় সরিয়ে আরেকটি শুকনো কাপড়ে শিশুকে মুড়িয়ে দিতে হবে এবং মাথা কাপড় বা টুপি দিয়ে ঢেকে রাখতে হবে। এতে শিশু উষ্ণ থাকবে এবং শ্বাস নেওয়ার জন্য উদ্দীপ্ত হবে। শিশুর শরীরের ভার্নিক্স (vernix) ঘষে তুলে ফেলা উচিত নয়।
২. মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে রাখা:
জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে রাখতে হবে। এতে শিশুর শরীরের তাপমাত্রা ঠিক থাকে, হাইপোগ্লাইসেমিয়া ও সেপসিসের ঝুঁকি কমে এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে দ্রুত স্তন্যপান শুরু হয়।
৩. সঠিক সময়ে নাড়ি কাটা:
জন্মের পর শিশুর নাড়ির স্পন্দন থেমে গেলে (১–৩ মিনিটের মধ্যে) নাড়ি কাটতে হবে এবং ৭.১% ক্লোরহেক্সিডিন লাগাতে হবে। এতে নবজাতকের রক্তস্বল্পতার ঝুঁকি কমে এবং কিছু ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের অভ্যন্তরে রক্তক্ষরণ প্রতিরোধে সহায়তা করে।
৪. এক ঘণ্টার মধ্যে মায়ের দুধ খাওয়ানো:
জন্মের প্রথম এক ঘণ্টার মধ্যেই শিশুকে মায়ের দুধ পান করাতে হবে। এতে নবজাতকের মৃত্যুহার প্রায় ১৯.১% পর্যন্ত কমে।
৫. ভিটামিন–কে ইনজেকশন প্রদান:
মায়ের ত্বকের সংস্পর্শে আনা এবং বুকের দুধ পান শুরু করার পর সকল নবজাতককে মাংসপেশিতে ১ মিলিগ্রাম ভিটামিন–কে ইনজেকশন দিতে হবে। এতে সম্ভাব্য রক্তক্ষরণ প্রতিরোধ করা যায়।
৬. শ্বাসনালী পরিষ্কার করা:
জন্মের পর শিশু যদি না কাঁদে বা মুছে শুকানোর পরও না কাঁদে, তাহলে পিঠে মৃদুভাবে ১–২ বার ঘষে উদ্দীপনা দিতে হবে এবং দ্রুত নাড়ি কেটে ফেলতে হবে। মুখে যদি অ্যামনিওটিক ফ্লুইড বা অন্য কোনো নিঃসরণ থাকে, তাহলে সাকার যন্ত্র দিয়ে আগে মুখ ও পরে নাক পরিষ্কার করতে হবে। পুরো প্রক্রিয়াটি এক মিনিটের (গোল্ডেন মিনিট) মধ্যে সম্পন্ন করা উচিত।
৭. নবজাতকের চোখের যত্ন:
শিশুকে মায়ের স্তনে লাগানোর পর তার দুই চোখে ইরিথ্রমাইসিন বা টেট্রাসাইক্লিন মলম ব্যবহার করতে হবে, যাতে চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায়।
৮. শিশুর টিকা শুরু করা:
জন্মের পর শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকে। তাই জন্মের পরপরই তাকে মুখে এক ডোজ পোলিও টিকা এবং চামড়ার নিচে এক ডোজ বিসিজি টিকা দিতে হবে।
৯. নবজাতকের ওজন নেওয়া:
শিশুর ওজন নেওয়ার প্রধান দুটি উদ্দেশ্য হলো—
(ক) বিশেষ যত্নের প্রয়োজন আছে এমন শিশুকে শনাক্ত করা
(খ) ওষুধের সঠিক মাত্রা নির্ধারণ করা
নবজাতকের স্বাভাবিক ওজন ২৫০০–৪০০০ গ্রাম। যেসব শিশুর ওজন ২৫০০ গ্রামের নিচে, তাদের কম ওজনের শিশু ধরা হয় এবং তাদের জন্য বিশেষ যত্ন প্রয়োজন।