
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের ভর্তির ক্ষেত্রে পরীক্ষা পদ্ধতির পরিবর্তে লটারি পদ্ধতিই অধিকতর যুক্তিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন অবসরপ্রাপ্ত উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এ এস এম জিল্লুর রশিদ। তিনি বলেন, বর্তমান সময়ে শিশু ভর্তি প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা চালুর বিষয়টি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা বাস্তবতা ও শিশু মনোবিজ্ঞানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে ভর্তি পরীক্ষা পদ্ধতি চালু থাকলেও নানা অনিয়ম ও অভিযোগের কারণে তা বাতিল করে লটারি পদ্ধতি চালু করা হয়। সফটওয়্যারনির্ভর এই পদ্ধতিতে মানবীয় হস্তক্ষেপের সুযোগ কম থাকায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত হয় এবং দরিদ্র ও পিছিয়ে পড়া পরিবারের শিক্ষার্থীরাও সমান সুযোগ পায়।
জিল্লুর রশিদ বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী কোচিং বাণিজ্য ও ফলাফলনির্ভর প্রতিযোগিতার সুবিধা ধরে রাখতে পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনতে চায়। কিন্তু লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে একটি শিশুর সামগ্রিক মেধা, নৈতিকতা, সৃজনশীলতা কিংবা মানবিক গুণাবলী মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, ৫ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের ওপর প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষা চাপিয়ে দেওয়া মনোবিজ্ঞানসম্মত নয়। এতে শিশুমনে ভয়, চাপ ও অনীহা সৃষ্টি হতে পারে, যা তাদের ভবিষ্যৎ শিক্ষা জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। শিক্ষা হওয়া উচিত আনন্দময় ও স্বতঃস্ফূর্ত—চাপমুক্ত পরিবেশে শিশুর স্বাভাবিক বিকাশই শিক্ষার মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।
তার মতে, শিক্ষাজীবন একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া, যা ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে। শুরুতেই অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা চাপিয়ে দিলে অনেক শিক্ষার্থী মাঝপথেই ঝরে পড়ার ঝুঁকিতে পড়ে। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রতিযোগিতামূলক না করে সহযোগিতামূলক পরিবেশে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
তিনি বলেন, লটারি পদ্ধতি মেধার সুষম বণ্টন নিশ্চিত করে এবং কোচিং নির্ভরতা কমায়। এর মাধ্যমে শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য হ্রাস পায় এবং সকল শিশুর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি হয়।
শেষে তিনি নবনির্বাচিত সরকার ও শিক্ষামন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, শিশুদের মানসিক বিকাশ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে লটারি পদ্ধতি বহাল রাখা এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বিজ্ঞানসম্মত ও শিশুবান্ধব করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।