May 14, 2026, 11:17 am
শিরোনাম :
শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা শিবচরে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে গৃহবধূর মৃত্যু অতিবর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় স্থবির রৌমারী, ১৮৪ মিমি বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত জনজীবন সরকারের উন্নয়ন বার্তা পৌঁছে দিতে গুইমারায় তথ্য অফিসের প্রেস ব্রিফিং ইবি থিয়েটারের নতুন নেতৃত্বে প্রণয় ও জ্যোতি

গবেষণার আড়ালে লুটপাটের অভিযোগ: প্রশ্নের মুখে ইউজিসির ‘হিট’ প্রকল্প

অতনু বিশ্বাস

দেশের উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণা সম্প্রসারণের লক্ষ্যে প্রায় চার হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত ‘হায়ার এডুকেশন অ্যাকসেলারেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (HEAT)’ প্রকল্প এখন নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)-এর অধীনে বিশ্বব্যাংক-এর সহায়তায় পরিচালিত এই প্রকল্পে অর্থ লোপাট, নিয়োগে অস্বচ্ছতা ও গবেষণা নির্বাচনে অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের শুরু থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। মেধাক্রমে প্রথম হওয়া প্রার্থীকে বাদ দিয়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় পছন্দের ব্যক্তিকে প্রকল্প পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।
গবেষণা নির্বাচনেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-এর একাধিক জ্যেষ্ঠ শিক্ষক দাবি করেছেন, আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষকদের বাদ দিয়ে তুলনামূলক কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন গবেষকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্বাচিত গবেষকদের প্রায় ৪০ শতাংশের সাইটেশন সংখ্যা ১০০-এর নিচে, যা বিশ্বমানের গবেষণার ক্ষেত্রে অপ্রতুল।
এছাড়া গবেষণাপত্র মূল্যায়নে বিষয়ভিত্তিক সামঞ্জস্য না রেখে রিভিউয়ার নিয়োগের অভিযোগও উঠেছে। সমাজবিজ্ঞানের শিক্ষককে স্থাপত্য বা ব্যবসায় প্রশাসনের গবেষণা মূল্যায়নের দায়িত্ব দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে অর্থ বণ্টন নিয়ে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট গবেষণা বরাদ্দ পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে ‘ফিফটি-ফিফটি’ ভিত্তিতে অর্থ ভাগাভাগির মৌখিক চুক্তি করছে। এতে প্রায় ১০০ কোটি টাকার অনিয়মের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তুলনামূলকভাবে কম সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা উচ্চশিক্ষা খাতে বৈষম্য তৈরি করছে।
যদিও ইউজিসি একাধিক বিজ্ঞপ্তিতে প্রকল্পের অগ্রগতি ‘সন্তোষজনক’ বলে দাবি করেছে, বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্যে বিশ্বব্যাংকের অসন্তোষ প্রকাশ পাওয়ার পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে।
বর্তমানে দ্বিতীয় পর্যায়ের গবেষণা প্রস্তাব মূল্যায়ন চলমান থাকলেও পূর্বের সিন্ডিকেট বহাল থাকার অভিযোগে স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিপুল অঙ্কের এই প্রকল্প যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত না হয়, তাহলে এটি দেশের গবেষণা খাতের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং বোঝা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এখন প্রশ্ন—এই প্রকল্প কি সত্যিই উচ্চশিক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে, নাকি একটি বিশেষ গোষ্ঠীর স্বার্থেই সীমাবদ্ধ থাকবে?



ফেসবুক কর্নার