
শিশুর বুদ্ধি ও সামগ্রিক বিকাশ মূলত নির্ভর করে তার মস্তিষ্কের বিকাশের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি শিশু জন্মের সময় প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ মস্তিষ্কের সক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। জীবনের প্রথম বছরেই তা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায় এবং ৫-৬ বছর বয়সের মধ্যে মস্তিষ্কের অধিকাংশ বিকাশ সম্পন্ন হয়।
চিকিৎসকরা বলছেন, মানব মস্তিষ্ক কোটি কোটি নিউরন বা স্নায়ুকোষের সমন্বয়ে গঠিত। এসব নিউরনের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ তৈরি হওয়াই শিশুর বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশের মূল চাবিকাঠি। জীবনের প্রথম পাঁচ বছরে এই সংযোগ যত বেশি তৈরি হয়, শিশুর শেখার ক্ষমতা ও মানসিক বিকাশ তত বেশি উন্নত হয়।
এ বিষয়ে জেনারেল চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন জানান, শিশুর সুস্থ বিকাশের জন্য পরিবারকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হয়। শিশুকে তার আশপাশের পরিবেশের সঙ্গে পরিচিত করা, নিয়মিত কথা বলা, খেলাধুলায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া এবং সৃজনশীল কার্যক্রমে যুক্ত করা মস্তিষ্কের বিকাশে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, শিশুকে ছোট থেকেই দৈনন্দিন কাজ যেমন খাওয়া, হাত ধোয়া, দাঁত ব্রাশ করা, পোশাক পরা ইত্যাদিতে উৎসাহিত করতে হবে। পাশাপাশি অন্যান্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা, দৌড়ঝাঁপ ও শারীরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে হবে। এতে শিশুর সামাজিক ও মানসিক বিকাশ ত্বরান্বিত হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শিশুর প্রশ্নের সঠিক উত্তর দেওয়া, ভালো আচরণ প্রদর্শন এবং পারিবারিক ইতিবাচক পরিবেশ নিশ্চিত করাও অত্যন্ত জরুরি। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে শেখে এবং তা অনুকরণ করে।
তারা বলেন, শিশুর পুষ্টি, পরিচর্যা ও মানসিক বিকাশ একটি পরিবার ও জাতির ভবিষ্যতের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। তাই শিশুদের যথাযথ যত্ন, সময় ও সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া প্রয়োজন, যাতে তারা সুস্থ, মেধাবী ও দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।