May 15, 2026, 9:43 pm
শিরোনাম :
ধামরাইয়ে প্লাস্টিকের বস্তা ব্যবহারে অটো রাইস মিলকে জরিমানা জনভোগান্তি নিরসনে তৎপর ময়মনসিংহ সিটি কর্পোরেশন পাটগুদাম-কালিবাড়ী বাইপাস সড়ক পরিদর্শনে প্রশাসক মনু নদী থেকে উদ্ধার ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর ঘন্টা না পেরোতেই বেরোবির নতুন উপাচার্য নিয়োগের প্রজ্ঞাপন বাতিল মান্দায় অনলাইন জুয়ার বিরুদ্ধে পৃথক অভিযানে ১৫ জন আটক নগদ টাকা, ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও মোবাইল ফোন জব্দ শিবচরে মাদক সেবন ও বিক্রির অভিযোগে নারীসহ তিনজনকে কারাদণ্ড নবাগত ইউএনও’র সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি প্রেসক্লাবের শুভেচ্ছা বিনিময় রৌমারীর আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো এখন অবহেলায় জরাজীর্ণ সংস্কারের দাবিতে বাড়ছে জনদুর্ভোগের শঙ্কা নেত্রকোনায় ২০ টন সরকারি চালসহ ট্রাক জব্দ, তদন্তে দুই রাইস মিলের সংশ্লিষ্টতা এক শিক্ষকে চলা বিদ্যালয়ে তিন শিক্ষক পদায়ন, যোগ দিলেন না কেউ

রৌমারীর আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলো এখন অবহেলায় জরাজীর্ণ সংস্কারের দাবিতে বাড়ছে জনদুর্ভোগের শঙ্কা

কে. এম. জাকির রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি

প্রতি বছর বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করা কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় বন্যাদুর্গত মানুষের আশ্রয়ের জন্য নির্মিত কেন্দ্রগুলো এখন নিজেই সংকটে। দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উপজেলার আটটি বন্যা আশ্রয়ণ কেন্দ্র জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে আসন্ন বর্ষা মৌসুমকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED) বাস্তবায়িত এবং আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (IFAD)-এর অর্থায়নে নির্মিত এসব আশ্রয়ণ কেন্দ্র ২০০৪ সালে “পল্লী উন্নয়ন প্রকল্প-২১” এর আওতায় নির্মাণ করা হয়। দাঁতভাঙ্গা-রাজিবপুর ভায়া রৌমারী সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জন্দির কান্দা, মির্জাপাড়া, কাঁঠালবাড়ি, চাক্তাবাড়ী ও সায়দাবাদসহ মোট আটটি কেন্দ্রে প্রায় ১০ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয় এই অবকাঠামো।
কিন্তু সরেজমিনে দেখা গেছে, বেশিরভাগ কেন্দ্রের দরজা-জানালা নষ্ট, কোথাও টিন খুলে নেওয়া হয়েছে, আবার অনেক শৌচাগার ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কোনো নজরদারি না থাকায় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি আশ্রয় কেন্দ্রের বিভিন্ন অংশ দখল করে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করছেন। কোথাও টিন খুলে নিয়ে ঘর নির্মাণ, আবার কোথাও দেয়াল ভেঙে ফেলার ঘটনাও ঘটেছে।
স্থানীয় সমাজসেবক শাহ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন বলেন, “এগুলো চরাঞ্চলের মানুষের দুর্যোগকালে শেষ ভরসাস্থল। অথচ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে। দ্রুত সংস্কার না করলে বন্যার সময় সাধারণ মানুষ চরম বিপদে পড়বে।”
সমাজসেবক মো. নাজমুল চৌধুরী নয়া বলেন, “জনগণের টাকায় নির্মিত এসব আশ্রয় কেন্দ্র রক্ষা করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। এখনই কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে রৌমারী-রাজিবপুর ও চিলমারী নিয়ে গঠিত কুড়িগ্রাম-৪ আসনের সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি মাহবুবুর আলম জানান, আশ্রয়ণ কেন্দ্রগুলোর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরে আনা হয়েছে এবং বন্যার আগেই প্রয়োজনীয় সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয়দের দাবি, বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই আশ্রয় কেন্দ্রগুলো দ্রুত সংস্কার ও দখলমুক্ত করে ব্যবহারের উপযোগী করা হোক। অন্যথায় দুর্যোগের সময় হাজারো মানুষের নিরাপদ আশ্রয়ের সংকট তৈরি হতে পারে।



ফেসবুক কর্নার