
ঠাকুরগাঁওয়ের নিটল-টাটা সার্ভিসিং সেন্টারে নিরাপত্তাকর্মী মো. আব্দুর রহমান (৫৮) হত্যার ঘটনায় জুয়েল (১৯) নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় হত্যায় ব্যবহৃত সরঞ্জামও উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খোদাদাদ হোসেন জানান, ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নে ঠাকুরগাঁও-দিনাজপুর মহাসড়কের পাশে নিটল-টাটা সার্ভিসিং সেন্টারের বাউন্ডারির ভেতরে নিরাপত্তাকর্মী আব্দুর রহমানকে হত্যা করা হয়। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালে তিনি নিজ বাসা থেকে কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের জন্য যান। সকাল ১১টার দিকে স্ত্রীকে মুঠোফোনে সর্বশেষ কথা বলেন তিনি। এরপর পরিবারের সদস্যরা একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
রাতে দায়িত্ব পালনের জন্য আরেক নিরাপত্তাকর্মী তোয়াবুর রহমান কর্মস্থলে গিয়ে বাইরের গেট তালাবদ্ধ দেখতে পান। একই সময়ে নিহতের ছেলে বাবার খোঁজে সেখানে উপস্থিত হন। পরে তোয়াবুর রহমান দেয়াল টপকে প্রতিষ্ঠানের বাউন্ডারির ভেতরে প্রবেশ করে আব্দুর রহমানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, গোপন তথ্য ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে একই প্রতিষ্ঠানের সাবেক নিরাপত্তাকর্মী জুয়েলকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর তাকে আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় বুধবার নিহতের ছেলে আশরাফুল ইসলাম বাদী হয়ে ঠাকুরগাঁও সদর থানায় জুয়েলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও কয়েকজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।