May 14, 2026, 3:30 pm
শিরোনাম :
ইবিতে গ্রীন ভয়েসের আত্মরক্ষা প্রশিক্ষণ শেষে সনদ বিতরণ জাককানইবির নতুন উপাচার্য হলেন অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন বিষমুক্ত খাদ্য উৎপাদনে কৃষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান মুকসুদপুরে পার্টনার কংগ্রেস অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত পরিচালক খয়ের উদ্দিন মোল্লা উপবন এক্সপ্রেসের টয়লেট থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার শ্যামগঞ্জ বাজারে আমিনুল সরকারের বেকারিতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের ভয়াবহ চিত্র অতিরিক্ত সোডা ব্যবহার, নোংরা পরিবেশে খাদ্য উৎপাদন—জনস্বাস্থ্যে মারাত্মক ঝুঁকির অভিযোগ ইপিজেডে রাস্তা দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগে আতঙ্কে হকার-শ্রমিকরা গর্জনিয়ায় পুলিশের অভিযানে ১ লাখ ইয়াবা উদ্ধার ঝিকরগাছায় দ্রুতগতির মোটরসাইকেলের ধাক্কায় নৈশপ্রহরীর মৃত্যু যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা: রাঙামাটিতে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড কুড়িগ্রামে খাদে পড়ার উপক্রম স্কুলবাস, অল্পের জন্য রক্ষা পেল শিক্ষার্থীরা

মাদকের জোয়ারে ভাসছে ভেড়ামারা

অভয়নগর প্রতিবেদক

 এমনিতেই মাদকে ছয়লাব ভেড়ামারা। অপরদিকে থার্টি ফার্স্ট ডে কে সামনে রেখে ভেড়ামারায় মাদক ব্যবসায়ীরা নড়েচড়ে বসেছিল। থার্টি ফার্স্ট ডে পার হয়ে গেলেও ব্যবসা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানা যায়।
সুশীল সমাজের চিন্তা মাদকের কারণে  ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ বাঁচানোর উপায় কি? মাদক নিয়ে সব কর্মকর্তারা জিরো টলারেন্স বললেও বাস্তবে তার উল্টো টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। সেখানে ভেড়ামারার সর্বত্র এলাকায় মাদক সেবী এবং ব্যবসায়ীদের কারণে এলাকায় চুরি, ছিনতাইসহ নানা অপ্রীতিকর ঘটনার সংবাদ পাওয়া যাচ্ছে হরহামেশাই।
ভেড়ামারার পৌর এলাকাসহ ৬ টা ইউনিয়নে মাদকে ছয়লাব। উর্তি বয়সের যুবকরায় ক্রমাগত সঙ্গদোষে মাদকের কবলে আসক্ত হয়ে চলেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায় অবিভাবক, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের উদাসীনতায় মাদক সেবীদের মাঝে খুব সহজেই  মাদক ব্যবসায়ীরা তাদের হাতে পৌঁছে দিচ্ছে মাদক।  এদের কোন দল নেই। যখন যে দল ক্ষমতায় আসে তাদের ছত্রছায়ায় থেকে গোপনে মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা যায়।
ভেড়ামারা কে মাদক মুক্ত করতে হলে পুলিশ প্রশাসনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, অবিভাবক, সুশীল এবং তরুণ সমাজ কে এগিয়ে আসতে হবে।পাশাপাশি এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
আজ আমরা ভেড়ামারার ধরমপুর ইউনিয়ন এর মাদকের  চিত্র নিয়ে আলোচনা করবো-
ধরমপুর ইউনিয়নে একাধিক মাজার থাকায় গাঁজার ব্যাপক প্রচলন আছে। সবগুলো মাজারের পাশাপাশি সাতবাড়িয়ার মন্ডলপাড়া, জামে মসজিদের উত্তর পার্শ্বে, সোনালী বিড়ির সামনে, ইউনিয়ন পরিষদের পাশে, বিলশুকা, ডাকেরবাড়ি, পাটুয়াকান্দি, হাওয়াখালি, ধরমপুর বাজার সংলগ্ন এলাকায় মাদক সেবী এবং ব্যবসায়ীদের ব্যাপক আনাগোনা।
জিয়ারুল নামের একজন বলেন,  এলাকায়  বাবা ঘোড়ে শাহ এর মাজারসহ একাধিক মাজার থাকায় এখানে গাঁজাসহ নানা মাদক খাওয়া ইতিহাস সকলেরই জানা। এই মাদক সেবীদের মধ্যে বর্তমানে স্কুল কলেজের ছাত্রদের সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। অনুসন্ধানে এবং এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, এলাকার প্রভাবশালী কিছু লোকের ছত্রছায়ায় মাদক ব্যবসায়ীরা আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। হিসনা নদীর পাড়ে বিভিন্ন বাগানে ( সাতবাড়িয়া হাসপাতাল থেকে বৃত্তি পাড়া রোড়), বিভিন্ন দোকানে বোড খেলার আড্ডায়, তাসের আড্ডায়,,,  মাদক সেবী এবং ব্যাবসীদের আনাগোনা পরিলক্ষিত হয়।
মাদক সেবী সুমন এর বাবা বলেন, আমি স্হানীয় গণ্যমাণ্য ব্যক্তিবর্গ, সাবেক চেয়ারম্যান, মেম্বার থেকে শুরু করে থানায় ও গিয়েছিলাম তার ছেলে কে জেলে পাঠানোর জন্য। ছেলের সাথে আমরা পারিনা।  কোন সুরাহ হয়নি।
রিয়াজ নামের একজন বলেন, বিকেল এবং সন্ধ্যায় বিলশুকার মাঠ রোডে এবং হিসনা ব্রীজ পার করে উত্তর দিকের  ভিতরের রোডে  মাদক সেবী এবং ব্যবসায়ীদের  মটর সাইকেল এর প্রতিযোগিতা মনে হয়।  সেই সাথে ইভটিজিং ও বেড়েছে।
ভাংগা পুলের শরিফ নামে একজন বলেন, ভাংগা পুল পার করে কামালপুর রোড থেকে মাজার পর্যন্ত একই অবস্থা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জন জন প্রতিনিধি জানান, মাদক সেবী এবং ব্যবসায়ীদের হাত অনেক লম্বা। তাই তাদের কে বলেও কোন কাজ হয়নি। তবে এলাকার সুধী সমাজ মনে করেন, পুলিশ প্রশাসন এবং এলাকার প্রভাবশালী নেতারা চেষ্টা করলে এলাকা মাদক মুক্ত করা সম্ভব। কিন্তু তাদের তেমন ভূমিকা লক্ষ করা যায়না। মাঝে মাঝে কুষ্টিয়া থেকে- ডিবি পুলিশ এর অভিযান লক্ষ করেছি।
ব্যবসায়ীদের মধ্যে নামের আদ্যক্ষরের- রি, রা,  জ, স,  ম, স-২, প, ,,,, ইত্যাদির নাম  অতি সুপরিচিত।
গ্রামের সুবিশাল বাগান এবং নানা জায়গায় যাওয়ার রাস্তা থাকায় থাকায় সেবীদের নিরাপদ অভয়ারণ্যে হয়েছে বলে জানিয়েছেন সোনালী বিড়ি এলাকার সুজন নামে এক ভুক্তভোগী পিতা।
বিষয়টি নিয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক সেবী বলেন, এলাকায় একাধিক মাজার থাকায় বাহির থেকে মাজারে লোকজন আসে তাদের মধ্যে গাঁজা খাওয়ার কথা সকলের জানা। কিন্তু তাদের সাথে এলাকার কিছু সেবী এবং ব্যবসায়ী জড়িয়ে পড়ায় গাজা ছাড়াও ট্যাপেন্টা, ফেন্সিডিল, ইয়াবাসহ নানা ধরনের ব্যবসা ভালোই চলে।
আ,র,জ,স,চ, ম, শ আদ্যঅক্ষরের কয়েকজন ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি জানিয়েছেন এই প্রতিবেদককে।
এলাকাবাসীর দাবী প্রশাসন তদন্ত সাপেক্ষে আশু হস্তক্ষেপ গ্রহণ করবেন।



ফেসবুক কর্নার