
রমজান মাস সংযম ও পারস্পরিক সহমর্যাদার প্রতীক হলেও রৌমারীর বাজারে সাধারণ মানুষের জন্য এখন ক্রমশ কঠিন সময় চলছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, নিত্যপণ্যের—বিশেষ করে কলা, দুধ ও লেবু—দাম সিন্ডিকেটের অদৃশ্য ইশারায় আকাশছোঁয়া। এক সময়ে যেখানে কলা ২০–৩০ টাকায় বিক্রি হতো, রমজানের আগমনেই তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫০–৬০ টাকায়। বাজারে সাধারণ ক্রেতারা এখন মনে করছেন, “কলার স্বপ্ন এখন বড়লোকের জন্য।”
দুধের বাজারেও অস্থিরতা বিরাজ করছে। রোজার আগে ৪৫–৫০ টাকায় এক লিটার গরুর দুধ পাওয়া যেত, এখন তা ৭০–৮০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। লেবু ২০ টাকার হালি দাম থেকে ৮০–১০০ টাকায় বেড়ে গেছে, অর্থাৎ মাত্র কয়েক দিনের মধ্যে চার থেকে পাঁচ গুণ বৃদ্ধি। এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও একটি অসাধু চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম নিয়ন্ত্রণ করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালতের তদারকি মাঝে মধ্যে কার্যকর হলেও তা বাজারে স্থায়ী প্রভাব ফেলতে পারছে না। ফলে সিন্ডিকেটের কাছে সাধারণ মানুষ যেন জিম্মি।
বাজার তদারকির ক্ষেত্রে প্রশাসনের প্রতি জনগণের দাবি স্পষ্ট—কেবল লোক দেখানো অভিযান নয়, নিয়মিত মনিটরিং এবং কঠোর নজরদারির মাধ্যমে এই অসাধু সিন্ডিকেট ভেঙে দিতে হবে। অন্যথায় রমজানের সেহরি ও ইফতারের থালায় নিত্যপণ্যের প্রয়োজনীয়তা হারিয়ে যাবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।