
মনিরামপুরের বাংলার সবুজ দিগন্তজোড়া মাঠ এখন বোরো ধানের সাফল্যের স্বপ্নে ভরপুর। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পাশে থেকে নিবিড় তদারকি ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।
রোববার উপজেলার রোহিতা, খেদাপাড়া ও ঝাপা ইউনিয়নের বিভিন্ন পয়েন্ট পরিদর্শনকালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যশোরের উপপরিচালক মোঃ মোশাররফ হোসেন সারের ডিলার পয়েন্ট ঘুরে দেখেন। সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি না হয় তা নিশ্চিত করতে কৃষকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন এবং ডিলারদের সতর্ক করেন। তিনি জানান, “বোরো আমাদের প্রধান লক্ষ্যমাত্রা। কোনো অসাধু চক্র যাতে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে না পারে বা বাড়তি দাম নিতে না পারে, সে বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছি। পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে, কারসাজি করলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মাঠ পর্যায়ে কৃষি কর্মকর্তারা শুধু অফিসিয়াল তদারকি নয়, কৃষকদের সঙ্গে কাদামাখা মাঠে নেমে চারা রোপণ ও সেচ ব্যবস্থাপনার খুঁটিনাটি বিষয় শেখাচ্ছেন। রোহিতা ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, “আগে সারের জন্য অস্থিরতা থাকত। এখন কৃষি অফিসাররা সরাসরি দোকানে গিয়ে দাম যাচাই করছেন এবং মাঠে এসে পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে আমাদের আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেছে।”
চলতি মৌসুমে মনিরামপুর উপজেলায় প্রায় ২৭ হাজার হেক্টরেরও বেশি জমিতে বোরো ধানের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উপজেলা কৃষি অফিসার মোছাঃ মাহমুদা আক্তার জানান, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবং চলমান তদারকি অব্যাহত থাকলে এবার লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে রেকর্ড পরিমাণ উৎপাদন সম্ভব হবে।