
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ১ নম্বর দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের ছোট ধনতোলা গ্রামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কৃষক মো. আজিয়ার রহমানের বসতঘর ও রান্নাঘর সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরবাড়ির পাশাপাশি ধান-চাল, আসবাবপত্র, কাপড়চোপড় ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রও ভস্মীভূত হয়েছে। ফলে পরিবারটি একেবারে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে।
ঘটনার বিবরণ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গভীর রাতে ঘুমিয়ে ছিলেন পরিবারের সদস্যরা। হঠাৎ আগুনের তাপ ও ধোঁয়ায় তাদের ঘুম ভেঙে যায়। মুহূর্তের মধ্যে আগুন শোবার ঘর থেকে রান্নাঘরে ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে পরিবারটি দ্রুত বাইরে বেরিয়ে আসে এবং চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও ততক্ষণে দুটি ঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
সর্বস্ব হারিয়ে দিশেহারা পরিবার
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আজিয়ার রহমান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন,
“আগুনে আমার সব শেষ হয়ে গেছে। থাকার ঘর আর রান্নার জায়গা কিছুই নাই। ছেলেমেয়েদের নিয়ে এখন কোথায় থাকবো বুঝতেছি না।”
স্থানীয়দের ধারণা, এ অগ্নিকাণ্ডে কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। দরিদ্র কৃষক পরিবারের পক্ষে এ ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বর্তমানে তারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
আগুনের কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
আগুনের সূত্রপাত কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট, চুলার আগুন বা অন্য কোনো কারণ—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। এ কারণে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত কারণ নির্ণয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সহায়তার আবেদন
দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের স্থানীয় ইউপি সদস্য ও এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে দ্রুত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের দাবি, উপজেলা প্রশাসন ও সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে পরিবারটি অন্তত মাথা গোঁজার একটি আশ্রয় ফিরে পেতে পারে।
মানবিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে একটি অসহায় পরিবার নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর সাহস পাবে—এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।