
বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী বলেছেন, গত ১৭ বছরে দেশের সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে এসে তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষা করতে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সোমবার (২০ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত বৃক্ষরোপণ, গাছের চারা এবং আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নিপুন রায় চৌধুরী বলেন, অতীতের শাসনামলে এমপি-মন্ত্রীরা মাদকের ডিলার হিসেবে কাজ করেছেন। এখন ভেঙে পড়া বাংলাদেশকে পুনর্গঠন করতে হলে তরুণ প্রজন্মকে মাদকের ছোবল থেকে ফিরিয়ে আনতে হবে।
তিনি ইমাম ও পুরোহিতদের উদ্দেশে বলেন, ধর্মীয় উপাসনালয়ে নিয়মিত মাদকবিরোধী সচেতনতামূলক বক্তব্য দেওয়া প্রয়োজন। এতে তরুণদের পাশাপাশি পরিবারের সদস্যরাও মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতন হবেন।
তিনি আরও বলেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদকের বিস্তার পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব নয়। এ জন্য সমাজের সব স্তরের মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং খেলাধুলার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন তিনি। তার মতে, প্রতিটি ইউনিয়নে খেলার মাঠ গড়ে তোলা হলে যুবসমাজ ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সম্পৃক্ত হবে এবং হতাশা কমবে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, শুধু গাছের চারা বিতরণ করলেই হবে না; নতুন নতুন নার্সারি উদ্যোক্তা তৈরির উদ্যোগও নিতে হবে।
ঝিনাইদহ জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ মজিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন, পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশীষ বিন হাছান, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা, সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নু, আনোয়ারুল ইসলাম বাদশা, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাস এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক রথীন্দ্র নাথ রায়।
জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সেলিম রেজার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির, সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং অসচ্ছল মানুষের মধ্যে প্রায় ১ কোটি ৪৮ লাখ ৪০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়।
এর আগে অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে জেলা পরিষদ চত্বরে বৃক্ষরোপণ করেন এবং ঝিনাইদহ জেলার পরিচিতি ম্যাপের ফলক উন্মোচন করেন অ্যাডভোকেট নিপুন রায় চৌধুরী।