August 18, 2026, 4:34 pm
শিরোনাম :
পুলিশের অভিযানে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার নয় গ্যাসসংকটে ২৬ দিন বন্ধ ময়মনসিংহের ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র, যুবদল নেতা হত্যা: স্ত্রীসহ দুজনের যাবজ্জীবন বন্দরে ন্যূনতম যাত্রীসেবাও নেই, ২ কোটি টাকার ঘাট ইজারায়ও কমেনি ভোগান্তি বিদ্যুৎহীন মোবাইলের আলোয় ৩৭ জনের ইমপ্লান্ট অপসারণ দৌলতপুরে খ্রিষ্টিয়ান নেতার জমি দখলের অভিযোগ, নেপথ্যে প্রভাবশালীদের ছায়া? ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজন গ্রেপ্তার বিআরটিএ কার্যালয়ে পার্কিং সংকটে গ্রাহক-এলাকাবাসীর ভোগান্তি থানার হাজত থেকে আ.লীগ নেতার ভিডিও, ওসিসহ তিন পুলিশ কর্মকর্তা প্রত্যাহার চালু হওয়ার প্রথম দিনেই পিংক বাসে ধাক্কা

বন্দরে ন্যূনতম যাত্রীসেবাও নেই, ২ কোটি টাকার ঘাট ইজারায়ও কমেনি ভোগান্তি

জাফর আহমেদ কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী চিলমারী নদীবন্দর সময়ের সঙ্গে পুরোনো জৌলুস হারালেও এর গুরুত্ব কমেনি। রৌমারী, রাজীবপুরসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলের হাজারো মানুষ প্রতিদিন এ নৌপথে যাতায়াত করেন। অথচ বিপুলসংখ্যক যাত্রীর ব্যবহার করা এই বন্দরে নেই ন্যূনতম নাগরিক ও যাত্রীসেবা। এমনকি একটি গণশৌচাগারও নেই। ফলে দীর্ঘ নদীপথ পাড়ি দিয়ে ঘাটে পৌঁছানো যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন নারী, শিশু ও বয়স্করা। শুধু শৌচাগার নয়, ঘাটে ভেড়া ট্রলার থেকে ঝুঁকি নিয়ে তীরে উঠতে হচ্ছে যাত্রীদের। বসার ছাউনি ও পর্যাপ্ত সুপেয় পানির ব্যবস্থাও নেই বলে অভিযোগ রয়েছে। অথচ চলতি অর্থবছরে চিলমারী নদীবন্দর ঘাটটি এক কোটি ৯৪ লাখ টাকায় ইজারা দেওয়া হয়েছে। বিপুল অঙ্কের রাজস্ব আদায় হলেও যাত্রীসেবায় তার প্রতিফলন নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রৌমারী, রাজীবপুর ও বিভিন্ন চরাঞ্চল থেকে নৌকায় চিলমারী বন্দরে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে ঘাটে পৌঁছানোর পর জরুরি প্রয়োজনে কোনো শৌচাগার না থাকায় বিব্রতকর অবস্থায় পড়তে হয়। অনেকে বাধ্য হয়ে আশপাশের বাসাবাড়িতে গিয়ে শৌচাগার ব্যবহারের অনুরোধ করেন। কেউ কেউ লোকলজ্জার কারণে নদীর তীরের খোলা জায়গায় প্রাকৃতিক কাজ সারতে বাধ্য হন। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। নিয়মিত এই নৌপথ ব্যবহারকারী শাহ্ মোমেন বলেন, ঘাটে একটি গণশৌচাগার থাকা খুবই জরুরি। নারী যাত্রী শামসুন্নাহার বেগম বলেন, পুরুষরা কোনোভাবে বাইরে কাজ চালিয়ে নিতে পারলেও নারীদের জন্য বিষয়টি অত্যন্ত কষ্টদায়ক। স্থানীয় সূত্রের দাবি, প্রতিদিন অন্তত ৫০টি নৌযান এ বন্দর দিয়ে চলাচল করে এবং প্রতিটি নৌযানে গড়ে ৮০ থেকে ১০০ জন যাত্রী থাকেন। সে হিসাবে প্রতিদিন প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার মানুষ এই ঘাট ব্যবহার করেন।
রমনা ঘাটের ঘাটমাস্টার মো. সিদ্দিক বলেন, ঘাট থেকে সরকার প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেলেও যাত্রীসেবা প্রায় নেই বললেই চলে। গণশৌচাগার স্থাপনের জন্য বিআইডব্লিউটিএকে জানানো হলেও দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। চিলমারী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম জানান, জনসমাগমপূর্ণ নদীবন্দরে পর্যাপ্ত শৌচাগার ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা না থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়। এদিকে বিআইডব্লিউটিএর বন্দর উন্নয়ন প্রকল্প পাঁচ বছর ধরে চললেও বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে মাত্র ৩৪ শতাংশ। বিআইডব্লিউটিএর নদীবন্দরের পোর্ট অফিসার পুতুল চন্দ্র বলেন, আপাতত আলাদা গণশৌচাগার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। প্যাসেঞ্জার টার্মিনালের কাজ শেষ হয়েছে এবং সেখানে টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। জেটির কাজ শেষ হলে টার্মিনালটি যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন, জেটি ও টার্মিনালের কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত হাজারো মানুষকে কেন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে? প্রতিবছর বিপুল রাজস্ব আদায় হলেও গণশৌচাগার, সুপেয় পানি, বসার ছাউনি ও নিরাপদে তীরে ওঠানামার ব্যবস্থা না থাকা বন্দরের ব্যবস্থাপনার বড় ঘাটতি বলে মনে করছেন তারা। দ্রুত এসব মৌলিক সেবা নিশ্চিত করে চিলমারী নদীবন্দরকে আধুনিক ও যাত্রীবান্ধব করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



ফেসবুক কর্নার