August 20, 2026, 1:00 pm
শিরোনাম :
মির্জা ফখরুলকে শুভেচ্ছা জানালেন অলি আহমদ মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের অভিনন্দন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ভোট দেয়নি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হলেন ২৫৫ ভোটে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ‘বিশ্বাসঘাতক’ হতে চান না রিয়া, জানালেন তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা ধামরাইয়ে নৌ ডাকাতির রহস্য উদ্ঘাটন, ৬ ডাকাত গ্রেপ্তার ধর্ষণের অভিযোগে নাইজেরীয় গায়ক পোকো লি গ্রেপ্তার কিছুক্ষণের মধ্যেই শেষ হচ্ছে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার কায়সার কামাল কুমারখালীর সরকারি স্কুলে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

কুমারখালীর সরকারি স্কুলে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও কোচিং বাণিজ্যের অভিযোগ

নাইম বিশ্বাস, কুমারখালী (কুষ্টিয়া) প্রতিনিধি।

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার দুর্গম চরসাদিপুর ইউনিয়নের চর চাঁদপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান ও শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আব্দুল হামিদ ও তাঁর স্ত্রী সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীন নিয়মিত ক্লাস না নিয়ে বহিরাগত দুই যুবককে দিয়ে পাঠদান করাচ্ছেন। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২৯৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র দুজন। অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সংকটের কথা বলে রিয়াদ হোসেন ও আলামিন ইসলাম নামে দুই যুবককে বিদ্যালয়ে এনে নিয়মিত ক্লাস, পরীক্ষা তদারকি ও কোচিং করানো হচ্ছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে নিয়মিত ক্লাস দুপুর দেড়টায় শুরু হওয়ার কথা থাকলেও শিক্ষার্থীদের সকাল সাড়ে ১০টার মধ্যে বিদ্যালয়ে আসতে বাধ্য করা হয়। কোচিং ও প্রাইভেটের নামে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে মাসে ৩০০ টাকা এবং বহিরাগত শিক্ষকদের মোটরসাইকেলের জ্বালানি খরচ বাবদ আরও ২০ টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত টাকা না দিলে কিংবা কোচিংয়ে অংশ না নিলে সন্তানদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ অভিভাবকদের। দারিদ্র্যপীড়িত এলাকার পরিবারগুলোর জন্য নিয়মিত এই অর্থ পরিশোধ করা কষ্টকর হয়ে পড়েছে বলে জানান তারা। তবে সহকারী শিক্ষক গোলাপী পারভীন দাবি করেন, তারা শুধু যুবকদের কাছ থেকে সহায়তা নিচ্ছেন। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল হামিদ বলেন, বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থী সামলাতে না পেরে বহিরাগতদের সহায়তা নেওয়া হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা স্বেচ্ছায় টাকা দেয়।
অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সিরাজুম মনিরা বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রক্সি শিক্ষক দিয়ে পাঠদান বা এ ধরনের অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। গণমাধ্যমের মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পেরেছেন জানিয়ে তিনি দ্রুত সরেজমিন তদন্ত করে সরকারি বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। কুমারখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতারও বিষয়টিকে গুরুতর উল্লেখ করে দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অনিয়ম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রমকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।



ফেসবুক কর্নার