August 25, 2026, 3:58 pm
শিরোনাম :
আমির হামজার ছবি ঘিরে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির’ গুঞ্জন ভিত্তিহীন ঈমান-আকিদা সংরক্ষণে উলামা-মাশায়েখ কনভেনশনে সাত দফা দাবি দলে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব না থাকলে বাতিল হতে পারে নিবন্ধন: সানাউল্লাহ পোশাক বিতর্কে সমালোচকদের জবাব দিলেন কৃতি স্যানন বন্দরে সাংবাদিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি গ্রেপ্তার মহানবীর আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর অর্থের অভাবে মেধাবীদের পড়াশোনা থামবে না: নুর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করলেন তিন বাহিনীর প্রধান আইএমইআই পরিবর্তন করা চোরাই মোবাইলসহ গ্রেপ্তার চার ইয়াবাসহ থানার এএসআই ও সহযোগী গ্রেপ্তার

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা গণহত্যা ও বাস্তুচ্যুতির কালো দিবস

আজিজুল হক সুমন, স্টাফ রিপোর্টার, কক্সবাজার

২৫ আগস্ট রোহিঙ্গাদের কাছে ঘর হারানোর, স্বজন হারানোর এবং পরিকল্পিত নিপীড়নের ভয়াবহ স্মৃতিবিজড়িত একটি দিন। ২০১৭ সালের এই দিনে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক অভিযান শুরু হলে হত্যা, নির্যাতন, যৌন সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও ভয়ভীতির মুখে মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে সাত লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এর আগে কয়েক দশক ধরে চলা বৈষম্য, নাগরিকত্বহীনতা ও সামরিক নিপীড়নের ধারাবাহিকতাই ২০১৭ সালে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেয়। আজও কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলো সেই সংকটের জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করছে। রোহিঙ্গাদের মুখে এখনো প্রতিধ্বনিত হয়—তারা গোলামির জীবন নয়, নিজেদের দেশে নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণভাবে ফিরে যেতে চান।
মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় কাঠামো দীর্ঘদিন ধরে রোহিঙ্গাদের নাগরিক অধিকার সংকুচিত করেছে। ১৯৮২ সালের নাগরিকত্ব আইন তাদের বড় একটি অংশকে কার্যত রাষ্ট্রহীন করে ফেলে। চলাফেরার স্বাধীনতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাদের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। ফলে ২০১৭ সালের গণহত্যা হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া কোনো ঘটনা ছিল না; বরং দীর্ঘদিনের বৈষম্য ও নিপীড়নের ধারাবাহিকতায় এর ভয়াবহ পরিণতি ঘটে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো ওই সময় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড, যৌন সহিংসতা, নির্যাতন ও অগ্নিসংযোগের তথ্য নথিবদ্ধ করে। নাফ নদী পেরিয়ে, পাহাড়-জঙ্গল অতিক্রম করে লাখ লাখ মানুষ বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেন। অনেকের কাছে তখন ঘরবাড়ি, সম্পদ কিংবা পরিবারের প্রিয়জন—কিছুই অবশিষ্ট ছিল না।
বাংলাদেশ রোহিঙ্গা সংকট সৃষ্টি না করলেও এর অন্যতম বড় ভুক্তভোগী দেশ। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ায় কক্সবাজারে খাদ্য, পানি, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নিরাপত্তা, পরিবেশ ও অবকাঠামোর ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীকেও এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক অভিঘাত বহন করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্ত নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। গণহত্যার পর আন্তর্জাতিক মহলে নিন্দা, তদন্ত ও বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন এখনো নিশ্চিত হয়নি। ২৫ আগস্ট তাই শুধু শোকের দিন নয়; এটি রোহিঙ্গাদের অধিকার, নিরাপদ প্রত্যাবাসন এবং ন্যায়বিচারের দাবিকে নতুন করে স্মরণ করার দিন।



ফেসবুক কর্নার